
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জজুড়ে কুরবানীর পশুর হাট ইজারা নিয়ে নানা অপতৎপরতা, প্রভাব বিস্তার ও অননুমোদিত হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক), বন্দর ও রূপগঞ্জ এলাকায় বৈধ ইজারাদারদের সমান্তরালে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ মানুষের দাবি—প্রশাসনের এখনই কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টে কুরবানীর পশুর হাট বসানোর জোর প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই ইজারা কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, সরকারি অনুমোদন ও বৈধ ইজারার তোয়াক্কা না করে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জোরপূর্বক হাটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় কোনো প্রকার প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর তোড়জোড় ও মাঠ গোছানোর কাজ শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশিশক্তি খাটিয়ে সরকারি সব নীতিমালা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাট বসানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে কয়লাঘাটসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অনুমতি ছাড়াই অবৈধ হাট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাও স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারণে চরম নিরাপত্তা হীনতা ও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈধ ইজারাদারদের অভিযোগ, তারা সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বৈধভাবে হাটের ইজারা নিলেও কিছু প্রভাবশালী মহল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিকল্প হাট বসিয়ে ব্যবসা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে বৈধ ইজারাদাররা যেমন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় খামারিরা বলছেন, কুরবানীর পশুর হাট কেবল কোনো সাধারণ ব্যবসা নয়, এটি স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পশুপালক ও খামারিরা তাদের সারা বছরের পুঁজি নিয়ে এই হাটগুলোতে আসেন। কিন্তু হাটের ভেতর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বা পেশিশক্তির মহড়া তৈরি হলে প্রকৃত খামারিরাই সবচেয়ে বেশি প্রতারণা ও ক্ষতির শিকার হবেন।
সাধারণ নগরবাসীও আশঙ্কা করছেন, পাড়ায় পাড়ায় অবৈধভাবে পশুর হাট বসলে তীব্র যানজট, চাঁদাবাজি, জালনোটের কারবার, অতিরিক্ত হাসিল আদায় এবং মলম পার্টির মতো অপরাধী চক্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। অতীতেও কুরবানীর পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল-বাণিজ্য, আধিপত্য বিস্তার ও একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকেই মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানে না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন অবৈধ হাটগুলো গোড়াতেই বন্ধ করা, বৈধ ইজারাদারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে দ্রুত টহল জোরদার করার দাবি উঠেছে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, কোনো অবস্থাতেই সরকারি নিয়মের বাইরে অবৈধ হাট পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না এবং অননুমোদিত হাটের বিরুদ্ধে কঠোর মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।







