
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানাধীন ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ‘মেলা ফুড ভিলেজ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর পজিশন নেওয়া একাধিক দোকানের তালা কেটে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলার এই চুরির নেপথ্যে রয়েছে সদ্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আলোচিত ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া আজমেরী ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সন্ত্রাসী মো. সিপন (৫২) এবং তার সিন্ডিকেট।
গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে কোনো এক সময়ে এই পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসিব হোসেন (২৩) বাদী হয়ে মেলা ফুড ভিলেজের অন্যতম অংশীদার মো. সিপনসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা দরখাস্ত সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার হাসিব হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিভিন্ন মেলায় কসমেটিক্স ও কাপড়ের স্টল দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ফতুল্লার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ‘মেলা ফুড ভিলেজ’ নামক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পজিশন ভাড়া নিয়ে মালামাল রেখে ব্যবসা করছিলেন। প্রতিদিনের মতো গত ২০ মে রাত ১০টার দিকে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল তালাবদ্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরদিন ২১ মে সকাল ৯টার দিকে হাসিবসহ অন্যান্য দোকানদারা মেলায় এসে দেখেন, অজ্ঞাতনামা চোরেরা সুনির্দিষ্ট কিছু দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে লাখ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী: ব্যবসায়ী হাসিব হোসেনের কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ১১,০০,০০০ (এগারো লক্ষ) টাকার মালামাল। ব্যবসায়ী কাকনের কসমেটিক্স দোকান থেকে ৪০,০০০ (আশি হাজার) টাকার মালামাল। তামান্নার দোকান থেকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকার জামা-কাপড়। রোজা রুমির কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ২৯,০০০ (ঊনত্রিশ হাজার) টাকার মালামাল। রাফির কসমেটিক্স দোকান থেকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার মালামাল। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকার মালামাল সযতনে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, মেলার মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে এত বড় চুরির ঘটনার পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে মেলা ফুড ভিলেজের কর্তৃপক্ষ ও বিবাদী মো. সিপনকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মেলা কর্তৃপক্ষ মালামাল চুরির বিষয়ে কোনো প্রকার কর্ণপাত না করে উল্টো টালবাহানা শুরু করে এবং ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মেলা ফুড ভিলেজে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা সচল থাকার কথা থাকলেও, চুরির ঘটনার সময় মেলা কর্তৃপক্ষ সিসি ক্যামেরা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল বলে ব্যবসায়ীদের জানায়। ব্যবসায়ীদের প্রবল আশঙ্কা, বিবাদী মো. সিপনের প্রত্যক্ষ ইন্ধন, পরামর্শ ও সহযোগিতায় তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন সদস্য সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে এই চুরির নাটক সাজিয়েছে এবং মালামাল আত্মসাৎ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার বিবাদী এই মো. সিপন (পিতা- মৃত আবুল মিয়া, সাং- ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন) বিগত স্বৈরাচারী আমলে আজমেরী ওসমানের অন্যতম ক্যাডার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিল। আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা ও চাষাঢ়া এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছিল সে। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় এই সিপনকে গ্রেফতার করে র্যাব এবং পরে সে জামিনে বের হয়ে আবারও অপকর্ম শুরু করে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এই চক্রটিই মূলত ব্যবসায়ীদের মালামাল গায়েব করে দিয়ে এখন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মেলার দায়িত্বপ্রাপ্তদের জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।







