সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন অদম্য সাখাওয়াত

16
সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন অদম্য সাখাওয়াত
সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন অদম্য সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি, আদালতপাড়া এবং আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি নাম অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি আইন পেশাতেও তৈরি করেছেন আলাদা অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়েই সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ধীরে ধীরে তিনি বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং সর্বশেষ আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পান। political বিশ্লেষকদের মতে, দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর একটি শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।

রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে একজন পরিচিত আইনজীবী হিসেবে কাজ করে আসছেন। বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তাঁর ভূমিকা জাতীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়। আইন অঙ্গনে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করে দেয়।

political জীবনে তাঁকে বহুবার গ্রেপ্তার, মামলা এবং নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়েন তিনি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠন থেকে দূরে সরে যাননি। বরং প্রতিবারই নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরে এসে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর অনুসারীদের মতে, এই দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক সংগ্রামই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

২০২৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, ধুলাবালি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন समस्या সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

কিন্তু এরই মাঝে তিনি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা নিয়ে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দলেরই একটি অংশ এবং প্রশাসন তাঁকে সহায়তা করছে না। বরং দলের ওই অংশটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিপরীতে প্রশাসন টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। যে কাজে টাকা নেই, সেই কাজে প্রশাসন নেই। তাই এই বিষয়টি নিয়ে সংকটের মাঝে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াৎ।

তার পরও সমর্থকদের কাছে সাখাওয়াত হোসেন খান একজন আপসহীন সংগঠক, সংগ্রামী রাজনীতিক এবং সাহসী আইনজীবী। সমালোচকদের ভিন্ন মত থাকলেও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, মামলা-গ্রেপ্তার মোকাবিলা, সংগঠনকে ধরে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনের দায়িত্ব লাভ—সব মিলিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত ও প্রভাবশালী নাম।

সংগ্রাম, প্রতিকূলতা এবং অদম্য প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এই রাজনীতিকের গল্প তাই অনেকের কাছেই এক লড়াকু জীবনের প্রতিচ্ছবি। আর সে কারণেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অনেকেই তাঁকে আখ্যা দেন “একজন অদম্য সাখাওয়াত”।