ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে সেবা বন্ধ রেখে মিটিং, রোগীদের তোপের মুখে ডাক্তার!

164
নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে রোগীদের তোপের মুখে ডা. সৈকত দাশ রনি
নারায়ণগঞ্জের ২০০ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে সেবা বন্ধ রাখায় ভুক্তভোগী রোগীদের ক্ষোভ প্রকাশ।

নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে, সেবা দেওয়ার মূল সময়েই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডাক্তারদের নিয়ে ‘ডিপার্টমেন্টাল সভা’ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতালের ভেতরই তুমুল হট্টগোল ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট কাটার কাউন্টারে আকস্মিক ঘোষণা দিয়ে টিকিট দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বরত ব্যক্তি জানান, আরএমও ও সিভিল সার্জন স্যারদের জরুরি মিটিং আছে। অন্যদিকে হাসপাতালের ২০২ নম্বর রুমে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ দেখাতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ১৪/১৫ জন রোগী। কিন্তু সেবা দেওয়ার মূল সময়েই কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৈকত দাশ রনি রুম থেকে বের হয়ে রোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি মিটিংয়ে যাচ্ছি, দেরি হবে। পারলে অপেক্ষা করেন অথবা কালকে আসেন”।

ডাক্তার সেবা না দিয়ে চলে যাওয়ায় রোগীরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হাসপাতালের সভাকক্ষের সামনে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। রোগীদের এই তোপের মুখে পড়ে ডা. সৈকত দাশ রনি পুনরায় তাঁর রুমে ফিরে গিয়ে সেবা দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সৈকত দাশ রনি বলেন যে, সভাটি মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর ছিল। “এই সভা আউটডোর সেবার পর (দুপুর আড়াইটার পর) কেন করা হলো না?”-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সিভিল সার্জন ও আরএমও-র ওপর দায় চাপান।

বিষয়টি নিয়ে আরএমও ডা. জহিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে এটিকে ‘হাসপাতালের স্বার্থে সভা’ বলে দাবি করেন। পরে তিনি ও সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন যে, সেখানে আইসিইউ চালু করার সভার পাশাপাশি হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর দোয়া মাহফিলও ছিল। সিভিল সার্জন উল্টো সাফাই গেয়ে বলেন, “ডাক্তাররাও মানুষ, ১০ মিনিট অপেক্ষা করলে খুব একটা সমস্যা হতো না”। অথচ ভুক্তভোগী রোগীদের অনেকে জানান, তারা সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলো।

এই সভাগুলো কি আইটডোর চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর অর্থ্যাৎ দুপুর আড়াইটার পর করা যেতো কিনা এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি আরএমও ও সিভিল সার্জন।

এদিকে, রোগীদের এই ক্ষোভ ও ডাক্তারের ফিরে আসার বিষয়টি ক্যামেরা ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্ত চিকিৎসক। তিনি অনুমতি ছাড়া ভিডিও করার অজুহাত তুলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলে এই প্রতিবেদক জানিয়ে দেন, “অনিয়ম করার সময় ভিডিও ধারণের কোনো অনুমতি লাগে না। ভিডিও পাবলিশ হবে, আইনি লড়াইয়ের জন্য আমরা প্রস্তুত!”