
হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণখেলাপি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ। এলাকাবাসীর দাবি, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ভাই ও দলচ্যুত স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমের শোচনীয় পরাজয় এবং বিপুল ভোটে আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় এই অশান্ত পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ও সিআইপি কার্ড বাগিয়ে নেওয়া এই ব্যবসায়ী ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নিজের আখের গোছাতে এবং আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের এই শীর্ষ ঋণখেলাপি এবার ঐতিহ্যবাহী ‘হোসেনপুর শম্ভুপুরা পিরিজপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়’ দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বজলুর ভাই রেজাউল করিম মাত্র ৪ হাজার ভোট পেয়ে জামানত হারান। দল ও জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পুরো বজলু পরিবার এখন চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বে ভুগছে। পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে না পেরে এবং বর্তমান জনপ্রিয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বজলুর রহমান পুরো এলাকায় এক অশান্ত পরিবেশ তৈরি করছেন।
এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো—বিগত সরকারের পতনের পর যেসব চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী এবং চাঁদাবাজ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল, বজলু তাদের টাকা দিয়ে নিজের বাহিনীতে ভিড়িয়েছেন এবং নিজেই তাদের প্রধান আশ্রয়দাতা (শেল্টার দাতা) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে এই বাহিনীর প্রকাশ্য মহড়া দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বজলু নিজে তো ব্যাংক ডাকাত, দেশের অর্থনীতির শত্রু। এখন সে এলাকার চিহ্নিত চোর-ডাকাত আর অপরাধীদের টাকা দিয়ে পুষছে। এদের কাজই হলো এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা। আমরা এখন জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মতে, হোসেনপুর শম্ভুপুরা পিরিজপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে বজলুর জোর তদ্বির করাটা মূলত স্কুলের বিশাল তহবিল লুট করা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে তাঁর অপরাধী বাহিনীর আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করার গভীর ষড়যন্ত্র। জাতীয় সংসদে ঘোষিত শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকায় ১০ নম্বরে থাকা (যার মালিকানাধীন বি আর স্পিনিং মিলসের কাছে চার ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা) এই ব্যক্তির নৈতিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
বজলুর রহমানের এসব অপকর্মে সোনারগাঁয়ের সর্বস্তরের জনগণ এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। সোনারগাঁয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই শীর্ষ ঋণখেলাপির ত্রাসের রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ বজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।







