“ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া” এখন কি করবেন তারেক রহমানের সরকার?

17
“ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া” এখন কি করবেন তারেক রহমানের সরকার?
“ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া” এখন কি করবেন তারেক রহমানের সরকার?

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই আদালতে দাখিল হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদী ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমান সরকারের আমলে দৃশ্যমান অগ্রগতি পাবে।

নারায়ণগঞ্জ সমাচারের সঙ্গে আলাপকালে রফিউর রাব্বী বলেন, “আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা বিচার চাই। ত্বকী শুধু আমার সন্তান ছিল না, সে এই দেশের হাজারো তরুণের প্রতীক। এত বছরের অপেক্ষার পর আমরা চাই আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হোক এবং সত্য উদঘাটিত হোক।”

তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে যে মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় আদালতে চার্জশিট দাখিল হতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, চার্জশিট হবে পূর্ণাঙ্গ, তথ্যভিত্তিক এবং আদালতে বিচার শুরু হওয়ার পথ সুগম করবে।”

রফিউর রাব্বী বলেন, অতীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালে প্রকাশ্যে ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন। তাঁর মতে, সেই অবস্থান ন্যায়বিচারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা ছিল। তিনি আশা করেন, বর্তমান সরকারও একই অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়ে মামলাটিকে বিচারিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নেবে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ত্বকী হত্যা মামলাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবার হিসেবে আমরা শুধু চাই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক।”

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সময়ে অগ্রগতির কথা জানানো হলেও দীর্ঘদিন অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল না হওয়ায় মামলাটি বিচার বিলম্বের অন্যতম আলোচিত উদাহরণে পরিণত হয়।

রফিউর রাব্বীর ভাষ্য, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তবে কেন দীর্ঘদিন অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থাই ব্যাখ্যা দিতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, চার্জশিট দাখিলের পর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে।

আইনজীবীদের মতে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা হলে মামলাটি একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করবে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবার ও সাধারণ মানুষের অপেক্ষার অবসানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।

নাগরিক সমাজের একাধিক প্রতিনিধিও মনে করেন, ত্বকী হত্যা মামলার অগ্রগতি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, তদন্ত ও বিচার আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চার্জশিট দাখিলের সম্ভাবনার খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ত্বকী হত্যা মামলা। এখন সবার দৃষ্টি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিকে।