
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে দলটির নেতারা দেশের যেকোনো এলাকায় গেলে বিএনপি সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এনসিপির নেতারা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা ঠিক নয়। তিনি এনসিপিকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে দেশের যেখানেই তারা কর্মসূচি পালন করবে, বিএনপি তাদের সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি রাজনীতি করবে এবং তাদের সহযোগিতা করা হবে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় গেলে সেখানকার ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপির অন্যতম পরিচিত এই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দেওয়া বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসেন।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করেন। বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং দলটির কিছু নেতাকর্মী অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
ওই কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে দলটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলও পাল্টা কর্মসূচি দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।
পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এরপর সিলেটেও এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তিনি আর কোনো কথা না বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাকে নিয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি দেখার কথা জানান তিনি।
শুক্রবার ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি অত্যন্ত সহনশীল, আন্তরিক ও বিনয়ী। বিরোধী দলের নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর আচরণ ও আন্তরিকতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, ঝিনাইদহের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়ন করা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনমন্ত্রী কাজ করছেন।
বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বক্তব্য দেন। এ সময় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।







