
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কুতুবপুর ইউনিয়নে নিজের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও জোটের প্রার্থীকে জেতাতে পারলেন না আলোচিত বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। অনেক নাটকীয়তার পর বিএনপিতে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত কুতুবপুরে আব্দুল্লাহ আল আমিনের বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিশেষ তদ্বিরে বিএনপিতে ফেরার সুযোগ পান দুই বহিষ্কৃত নেতা—মনিরুল আলম সেন্টু ও রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। গত ২০ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। মূলত কুতুবপুরে সেন্টুর জনপ্রিয়তা ও ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে কাসেমীকে জয়ী করাই ছিল দলটির প্রধান কৌশল। এমনকি কাসেমী লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে আলাপ করেও সেন্টুর পক্ষে সুপারিশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
মনিরুল আলম সেন্টু কুতুবপুর ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করায় তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, যার ফলে সরকার পতনের পর তিনি একাধিক মামলার আসামিও হন।
এত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিএনপিতে ফেরার পর সেন্টু ও রিয়াদ চৌধুরী জোটের প্রার্থী কাসেমীর পক্ষে মাঠে নামেন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেন্টুর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুতুবপুরেও আল আমিনের জয়জয়কার ঠেকানো যায়নি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সেন্টুর নিজের দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘হাজী মিছির আলী কলেজ’ কেন্দ্রেও কাসেমীর ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক জয়লাভ করতে পারেনি।
সেন্টুর হাতের মুঠোয় থাকা এই কেন্দ্রেও ‘খেজুর গাছ’ তথা বিএনপির জোট প্রার্থীর এমন বিপর্যয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা বলছেন, সেন্টু দলে ফিরলেও কুতুবপুরের সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পারেননি। ফলে কুতুবপুরে আব্দুল্লাহ আল আমিনের অগ্রযাত্রা রুখতে সেন্টুর কোনো কৌশলই কাজে আসে







