ফতুল্লায় জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

75
ফতুল্লায় জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৩ শতাংশ মূল্যবান জমি দখল, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এনে ‘ওশান এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ওশান টেক্স’-এর সিইও মো. তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভূমি মালিক।

বুধবার (৫ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ভূমি মালিক এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ফতুল্লা থানাধীন দাপা ইদ্রাকপুর মৌজার আর.এস. ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগে তার ৭ শতাংশ এবং মনোয়ার হোসেন মৃদুলের ৯ শতাংশসহ মোট ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। তার দাবি, ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও যৌথ সার্ভে অনুযায়ী মো. তৈয়ব মিয়া ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন। পাশাপাশি রাস্তার জন্য আরও প্রায় ৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছেন। বিষয়টির সমাধানে জমি বিনিময়, বাজারমূল্যে ক্রয় কিংবা পুরো জমি বিক্রির একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, তৈয়ব মিয়া তার প্রতিষ্ঠানকে ‘ফুললি এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড জাপান বেজড ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে বিকেএমইএ (BKMEA) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (BGBA) সদস্যপদ নবায়ন হয়নি। এছাড়া শতভাগ জাপানি কোম্পানি ‘কে-টু লজিস্টিকস’ (K-2 Logistics) লিখিতভাবে জানিয়েছে, অবকাঠামো বা রাস্তা-সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কারণে তাদের কোনো অর্ডার বাতিল হয়নি। গত নভেম্বর ২০২৫ সালের পর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে সীমানা ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তদন্তে ডাকাতি মামলাটি ভিত্তিহীন বলে উঠে এসেছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে বলে দাবি করেন মাহমুদুর রহমান।

এছাড়া, ২ জুন ২০২৬ তারিখের একটি কথিত হামলার মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য অনুযায়ী ওই সময় বাদী ও বিবাদী উভয়ই ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী জমির ইজমেন্ট রাইট প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সময়ের ব্যবহার প্রয়োজন। অথচ কয়েক বছরের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে স্থায়ী অধিকার দাবি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে নানা অপপ্রচারের অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।