সিটি কর্পোরেশনে টাকা নেই কেন? আইভীর কাছে প্রশ্ন নগরবাসীর

18

নারায়ণগঞ্জ সমাচার:

বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্চন্নতাকর্মীরা। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ চেষ্টা করেও তাদের এ কর্মসূচী বন্ধ করতে না পেরে অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে বিকেল ৪টার সময় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নীচে নেমে আসতে বাধ্য হন।

এসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মেয়র আইভী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কাউন্সিলরদের সচিব ও অন্যান্য স্টাফদেরও বেতন আরো ৩মাস আগে বেড়েছে। কিন্তু বৃদ্ধি হওয়া এ টাকা আমরা কাউকেই দিতে পারি নাই, কেননা আমাদের কাছে টাকা নেই। তোদের বেতন ৮ হাজার টাকা আর ফ্ল্যাটে থাকার জন্য ৫ হাজার টাকা দেয়া হবে এবং ফ্ল্যাটে থাকলে এই ৫ হাজার টাকা কেটে নেয়া হবে কাজ করলে কর আর না করলে নাই। আমি চললাম।

টাকা নাই মর্মে মেয়রের যে বক্তব্য তা শুনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। মেয়র আইভীর কাছে নগরবাসীর প্রশ্ন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের টাকা নেই কেন? কোথায় গেলো সিটি কর্পোরেশনের টাকা? পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য স্টাফদের বেতন বৃদ্ধি পেলেও কেনো বর্ধিতকৃত টাকা দেয়া হচ্ছে না তাদের।

এর আগে, বিক্ষোভ কর্মসূচীতে “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “ আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা” এ ধরনের নানা শ্লোগান দিতে থাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বিক্ষোভ করতে করতে নগর ভবনের গেইটের সামনে বসে পড়ে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের ভিতরে থাকা কোনো গাড়ি বাইরে যেতে দেয়া হবেনা বলে ঘোষণা দেয় তারা।

দুপুর দেড়টায় সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর তাদের মেইন গেইট থেকে চলে যেতে বলে। তখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে নগরভবন ত্যাগ করে ঐ কাউন্সিলর। ২টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তার সাথে কোনো কথা বলতে রাজী হয়নি। এসময় তারা জানিয়ে দেয়, নগরমাতা তথা মেয়র আইভী ছাড়া অন্য কারো সাথে কোনো কথা বলবে না তারা।

এর কিছুক্ষণ পরই বিভিন্ন ড্রামে করে ময়লা এনে নগরভবনের সামনে ফেলে দেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ময়লা ফেলে এসময় আবারও বিক্ষোভ শুরু করে তারা।
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ৫ জন পুলিশ সদস্য এসে তাদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে পিছু হঠে পুলিশ। পরে পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন সাব ইন্সপেক্টর আসেন এবং তারাও ব্যর্থ হন, সর্বশেষ দুপুর ৩টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান এসে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন।

এসময় আনিচুর বলেন, এসপি মহোদয় আমাকে বলেছে আপনাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে তাকে জানাতে। স্যারকে জানালে তিনি আপনাদের নিয়ে মেয়রের সাথে কথা বলবে কিন্তু আপনারা এখন নগরভবন ছেড়ে দেন।

আনিচুরের এমন বক্তব্যে প্রেক্ষিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নেতা শিমুল বলেন, আমরা আপনাকে সম্মান করি, আমরা পুলিশ সুপার স্যারকে স্যালুট জানাই। কিন্তু পুলিশ সুপার স্যার আমাদের বেতন বাড়ানোর মালিক নয়, বেতন বাড়ানোর মালিক নগরমাতা আইভী। তাই আমরা অন্য কারো কথা শুনতে চাইনা, নগরমাতা আইভী আমাদের অভিভাবক। তিনি নিজে এসে আমাদের সাথে কথা বলুক, আমাদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেক, তাহলে আমরা যার যার বাসায় চলে যাবো।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়ে নগরভবনের ভেতরে যান এবং মেয়রের সাথে কথা বলেন। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে বিকেল ৪টার সময় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নীচে নেমে আসতে বাধ্য হন।