সোনারগাঁয়ে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে

23

নারায়ণগঞ্জ সমাচার:

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জোরেশোরে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। শীত উপেক্ষা করে প্রার্থীরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। পথে পথে, হাটবাজারে সবার মুখে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। প্রার্থীদের ভালো-মন্দ ও বিগত দিনের কাজ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজনেই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। লিয়াকত হোসেন খোকা ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালে এমপি হন কায়সার হাসনাত। এবারও এই দুই প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করবে বলে অভিমত ভোটারদের।

১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সোনারগাঁ উপজেলা (নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন)। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সোনারগায়ের শম্ভুপুরা, মোগরপাড়া ও নোয়াগাও ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এসব ইউনিয়নের প্রত্যেক এলাকাতেই চায়ের দোকান ও বাজারগুলোতে মানুষের মুখে মুখে নির্বাচনের আলোচনা। তাদের কেউ ব্যস্ত খোকা ও কায়সারের মধ্যে কার অবস্থান শক্ত, সেটা নিয়ে আলোচনায়। আবার বর্তমান সংসদ সদস্য এবারের মেয়াদে যেসব উন্নয়ন করেছেন সেটা নিয়েও কথা হচ্ছে।

শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের চা দোকানদার রাজ্জাক মিয়া বলেন, এইবারও অনেক ভোটে জিতবো খোকা ভাই। খোকা ভাই ১০ বছর অনেক কাম করছে, রাস্তা-ঘাটের কাম করছে। শুনছি, কায়সার হাসনাতের বাড়ির রাস্তার কাজও নাকি খোই ভাই করছে। তাহলে উনি (কায়সার হাসনাত) এমপি থাকা অবস্থায় কি করছে এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব আউয়াল মিয়া বলেন, খোকা তো ভালো পোলা, অই জিতবো। অর (তার) সময়ে কোনো গুন্ডা আছিল (ছিলো) না গ্রামে। গ্রামে কোনো ঝগড়া-ঝাটিও অয় (হয়) নাই। আর কাউসার (কায়সার) যহন এমপি আছিল (ছিলো), তহন দুইদিন বাদে বাদেই (পরপরই) মারামারি অইতো।

মোগরাপাড়া ইউনিয়নের অটোচালক সুরুজ মিয়া বলেন, আমাগো এলাকায় দুইডা (দুইটা) ব্রীজ করছে। স্কুল-কলেজেও উন্নয়ন করছে। সবচেয়ে বড় কথা হইলো, কারো লগে খোচাখুচি করে নাই। এলাকায় শান্তি ছিলো। কায়সার ভাইয়ের সময় তেমন কোনো উন্নয়ন হয় নাই।

নোয়াগাও ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, খোকা ভাইকে যখনই ডেকেছি, তখনই পাশে পেয়েছি। উনার সাথে যখন খুশী দেখা করা যায়, গত ১০ বছরই উনি এলাকায় ছিলেন। কারো সাথে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করেন নাই, কাউকে করতেও দেন নাই। সবাই শান্তিতে বসবাস করেছি। এমন একটা মানুষকে ভোট দিবো না, তাহলে কাকে ভোট দিবো। কায়সার হাসনাত সম্পর্কে তারা বলেন, কায়সার হাসনাতের সাথে তো এখনই দেখা করা মুশকিল, এমপি হলেও তিনি থাকবেন ধরা ছোয়ার বাইরে। আকাশের চাঁদ যেমন দেখা যায়, ছোয়া যায় না তেমনি, তার সাথেও আর দেখা করা যাবে না। তাছাড়া, পুরো সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলও মনে করে, সোনারগাবাসীর জন্য কায়সার হাসনাতের তুলনায় লিয়াকত হোসেন খোকা বেশী নিরাপদ। কেননা, তার কোনো গুন্ডা বাহিনী নেই। গত ১০ বছর উপজেলার সকল পাড়া-মহল্লা ঘুরে মানুষের হৃদয়ে স্থান করেছে সে। যা ২০০৮ সালে এমপি হয়ে কায়সার হাসনাত করতে পারে নাই। এসব কারণে ০৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে বলে মনে করেন তারা। ফলে খোকার বিজয় অনেকটা নিশ্চিত, অপেক্ষা শুধু সময়ের দাবি তাদের।