
এরই জেরে, স্থানীয় বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতার সমর্থকেরা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ায়। এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস (৭০) নামে এক ব্যক্তি।
ফলে, পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আবুল কাওসার আশার সমর্থক।
অন্যদিকে, অভিযোগের তীর আরেক সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হান্নান সরকারের অনুসারীদের দিকে। এই ঘটনা
আবারও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন্দল এবং এর ভয়াবহতাকে সামনে আনল।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বন্দর রেললাইন অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই মূল দ্বন্দ্ব।
মূলত, এই স্ট্যান্ডের চাঁদা আদায় নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই হান্নান সরকার ও আবুল কাওসার আশার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।
এমনকি, শুক্রবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যাতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
হান্নান সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বাবু ও মেহেদীর নেতৃত্বে একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তেই বন্দর শাহী মসজিদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুসকে একা পেয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য: ‘এ লড়াই শুধু স্ট্যান্ডের নয়, ক্ষমতার’
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই লড়াই শুধু স্ট্যান্ডের নয়, ক্ষমতারও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, “দুই নেতার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আমাদের শান্তি নেই। আজ একজন নিরীহ মানুষ মারা গেল, এর দায় কে নেবে?”
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ আশার সমর্থকেরা হান্নান সরকারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়।
পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ
এ বিষয়ে হান্নান সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, আবুল কাওসার আশা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “বাবু, মেহেদী, রনি ও জাফর সবাই এক সময় একসঙ্গে চলাফেরা করত। কিন্তু সম্প্রতি অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।’
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ ঘটেছে।” তিনি আরও জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।







