
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৬০ জনের বেশি দগ্ধ হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২১ জুলাই) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন মারা গেছেন।
এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডা. সাইদুর রহমান ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ ৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও পাইলটের মৃত্যু
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে।
এর কিছুক্ষণ পরেই এটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। বিমানে পাইলট একাই ছিলেন।
দুর্ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মাইলস্টোন কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) বুলবুল আহমেদ জানান, ঘটনার সময় কলেজে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলছিল।
বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ ভবনের একাংশে আগুন ধরে যায়।
হাসপাতালে আহতদের ভিড়, রক্তের জন্য আকুতি
দুর্ঘটনার পর দগ্ধ ও আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উত্তরার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, তাদের কাছে আসা ৬০ জনের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী এবং তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, “এখনও রোগী আসছে। এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি।”
আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রচুর রক্তের প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ সহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রক্তদানের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে মেট্রোরেলের একটি বগি রিজার্ভ রাখার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ সদর দফতর।
ঘটনাস্থলে ভিড় না করে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, জরুরি তথ্য ও সহায়তার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে একটি হটলাইন (০১৯৪৯০৪৩৬৯৭) চালু করা হয়েছে।







