রূপগঞ্জে পৌনে ২ কোটি টাকার সরকারি জেটি এখন মাদক ও জুয়ার আখড়া

9
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের অব্যবহৃত সরকারি জেটি।
নির্মাণের ৭ বছর পরও চালু না হওয়ায় রূপগঞ্জের মাদারঘাট এলাকার জেটিটি এখন ধ্বংসের পথে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি সরকারি জেটি উদ্বোধনের অভাবে ৭ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

অযত্ন আর অবহেলায় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাদারঘাট এলাকায় পণ্য লোড-আনলোডের সুবিধার্থে এই জেটিটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

কিন্তু নির্মাণের পর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এটি আজও উদ্বোধন বা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জেটিটির কাঠামো দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। 

অনেক স্থানের সিমেন্টের প্লাস্টার খসে পড়েছে, সিঁড়ি ভেঙে গেছে এবং পুরো এলাকা ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এই জেটি ও এর আশপাশের এলাকা পুরোপুরি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জেটি চালু না হওয়ায় এবং জনসমাগম কম থাকায় চুরি করা জ্বালানি তেল পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। 

তিনি আরও বলেন, “জেটিটি চালু হলে এখানে মানুষের আনাগোনা বাড়ত, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটত এবং অপরাধমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যেত।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে সরকারি জেটি অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে জেটি নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসন অবৈধ জেটি উচ্ছেদ না করে এবং সরকারি জেটি চালু না করায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

জেটিটি উদ্বোধন না হওয়ার বিষয়টি তাদের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেন  জানান রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন। 

অন্যদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য স্বীকার করে বলেন, খুব শীঘ্রই জেটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করা হবে এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি টাকায় নির্মিত এই স্থাপনাটি দ্রুত চালু করে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় করা সম্ভব। 

তেমনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।