তরুণদের আইডিয়া ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতায় ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ গড়তে চান মাসুদুজ্জামান

আমি নারায়ণগঞ্জের সন্তান, এ শহর আমাদের

14
"নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান কালির বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন।"
"নারায়ণগঞ্জের কালির বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বার্তা দিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান। ব্যবসায়ীদের চাপা ক্ষোভ ও দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে একসূত্রে গেঁথে তিনি একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও পরিকল্পিত ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ গড়তে চান।

শনিবার (০২ আগস্ট) কালির বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উন্নয়নের এই রূপরেখা তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ীদের পাশে মাসুদুজ্জামান: ‘আপনাদের কষ্ট শোনার লোক নেই’

সভার শুরুতেই মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা কিন্তু আজকে অনেক কষ্টে আছেন। আমাদের অনেক দুঃখ-কষ্ট আছে কিন্তু শোনার লোক নাই। রাষ্ট্র শোনে না, রাজস্ব বিভাগ শোনে না, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকেও শোনাতে পারি না।” তবে এই হতাশার মাঝেও তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে টিকে থাকার কথা বলে ব্যবসায়ীদের মনোবল জোগান।

‘আমি আপনাদেরই সন্তান’

গভীর আত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমি মাসুদ, আপনাদেরই সন্তান। এই অঞ্চলেরই নদীর পানি, আকাশ-বাতাসে আমি বড় হয়েছি। এই শীতলক্ষ্যা নদীতে সাঁতরিয়ে বড় হয়েছি। আমার জন্ম এখানে, আমার পূর্বপুরুষের জন্ম এখানে। সো, এটা আমাদের শহর।” তিনি বলেন, এই শহরকে সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সকলের। এর জন্য শুধু ভোট নয়, বরং সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

একটি আদর্শ শহরের চিত্র এঁকে তিনি বলেন, “আমাদের দরকার একটা সুন্দর, নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও যানজটমুক্ত শহর।”

তবে, হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আজকে যখন আমি এই কালিবাজারের পথটা দিয়ে হেঁটে আসছিলাম, তখন মনে হয় স্বপ্ন অনেক অনেক দূরে।”

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিশাল দায়িত্ব থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি: ৬৪ জেলার মিলনস্থল নারায়ণগঞ্জ

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ৬৪টি জেলার মানুষকে একোমোডেট করা হয়েছে। আমরা তাদের মেহমানের সম্মান দেই নাই, আমরা নাগরিকের সম্মান দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “হোক খ্রিষ্টান, হোক মুসলমান, হোক হিন্দু, হোক বৌদ্ধ, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করব।”

তরুণদের আইডিয়া ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা: পরিকল্পিত নগরের মূলমন্ত্র

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি আনেন তরুণ প্রজন্মকে। মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমাদের কিছু না কিছু তো অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের এই প্রবীণ বয়সের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের পার্টিসিপেশনে, তাদের আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে একটা পরিকল্পিত নগর গড়ার ইচ্ছা আমার। একা কেউ পারবে না।”

রাজনৈতিক কৌশল: কেন মাসুদুজ্জামানের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদুজ্জামানের এই বক্তব্য নিছক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি বহুমাত্রিক কৌশল।

তিনি একদিকে ব্যবসায়ীদের দুঃখের কথা বলে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে ‘মাটির সন্তান’ হিসেবে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তরুণদের সম্পৃক্ত করে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়ার স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন। 

যা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারে এবং তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।