
তারিখ ঘোষণা হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনের মূল আকর্ষণ ভোটের দিন নয়, বরং ভোটের আগের মুহূর্তগুলো। আইন অঙ্গনের বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে উত্তাপ আর রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন। মূলত, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি এবং জামায়াত সমর্থিতদের একটি প্যানেল মাঠে নামার ঘোষণায় এবারের নির্বাচন একটি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিভক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপির দুই প্যানেল
আগামী ২৮ আগস্টের নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বাইরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আরেকটি শক্তিশালী প্যানেল গঠিত হয়েছে, যা নির্বাচনী উত্তাপকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফোরামের প্যানেল: আদালতপাড়ার প্রভাবশালী আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানের সক্রিয় ভূমিকায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি প্যানেল চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।
বিদ্রোহী প্যানেল: এর বিপরীতে, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা এবং অ্যাডভোকেট শেখ মো. গোলাম মোর্শেদ গালিবের নেতৃত্বে ‘গণতান্ত্রিক আইনজীবী পরিষদ’-এর ব্যানারে প্রায় ১২টি পদে আরেকটি প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক আইনজীবী পরিষদ’-এর প্যানেলে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খোকা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মোমেনসহ অনেকে। প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন অ্যাডভোকেট শেখ মো. গোলাম মোর্শেদ গালিব।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল
জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল পূর্ণ প্যানেল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নির্বাচনী হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এই বিভক্তি নিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, “প্রতিযোগিতা থাকা ভালো, কিন্তু একটি বড় সংগঠনের আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি সমিতির জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।”
অন্যদিকে, তরুণ আইনজীবীরা বলছেন, “এবারের ত্রিমুখী লড়াইটা বেশ উপভোগ্য হবে। আমরা তরুণরা পরিবর্তন চাই। আমরা এমন একটি কার্যকরী প্যানেলকে বেছে নিতে চাই, যারা আমাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার থাকবে। প্রতিযোগিতা যত বেশি হবে, প্রার্থীদের কাছ থেকে তত বেশি প্রতিশ্রুতি আদায় করা সম্ভব হবে।”
অবাধ নির্বাচনের আশ্বাস
এমন তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, এ ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “বুলেটের আঘাত আমার বুকে না পড়া পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবো, ইনশাআল্লাহ।”
সব মিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মর্যাদার লড়াইয়ে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন যে একটি ঐতিহাসিক ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন শুধু অপেক্ষা ২৮ আগস্টের, যেদিন আইনজীবীরা তাদের ভোটের মাধ্যমে সমিতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন।







