আড়াইহাজারের এক নেতার মুখোশ উন্মোচন: রনির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র

কোনো ষড়যন্ত্রে রনিকে দমানো যাবে না, বলছে বিএনপি নেতাকর্মীরা

187
ষড়যন্ত্রের শিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট  রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে তোলপাড় এবং তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

অভিযোগের তীর সরাসরি আড়াইহাজার আসনের বিতর্কিত এমপি প্রার্থী ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত এক নেতার দিকে।

এই ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জেলার সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ ও রনির প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

আড়াইহাজারের নেতার জঘন্য ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে

জানা গেছে, মশিউর রহমান রনিকে ‘শীর্ষ চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে একটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রিপোর্ট করানো হয়।

এই রিপোর্টটি একটি নির্দিষ্ট সংস্থার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তৈরি ও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা আড়াইহাজার আসনের জনবিচ্ছিন্ন একজন এমপি প্রার্থী।

এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধেই সম্প্রতি ফকির গার্মেন্টস নামে একটি বৃহৎ গার্মেন্টস শিল্প মালিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, যা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

ধারণা করা হচ্ছে, নিজের অতীতের চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে নিজেকে আড়াল করতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা অত্যন্ত জনপ্রিয় যুবদল নেতা রনিকে ঘায়েল করতে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই নিম্নমানের ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।

কে এই মশিউর রহমান রনি? জনগণের আস্থার প্রতিচ্ছবি

মশিউর রহমান রনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একজন উদীয়মান, জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত।

বিগত সরকারের সময়ে তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন এবং তৎকালীন  এমপি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করে জনগণের কাছে ‘গণতন্ত্রের অকুতোভয় সৈনিক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

এই নির্ভীক সংগ্রামের কারণে তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দীর্ঘ মাস কারাভোগ করেছেন, রিমান্ডে নিয়ে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি গুম ও ক্রসফায়ারেরও চেষ্টা চালানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের আপামর জনগণ তার এই আত্মত্যাগ ও নির্ভীক সংগ্রামের কথা ভালোভাবেই অবগত। দলের দুর্দিনে রনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, জিয়াউর রহমানের আদর্শের অটল সৈনিক।

জেলায় যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে রনি অন্যতম জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতা হিসেবে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত।

এমন একজন ত্যাগী, ক্লিন ইমেজের ও জনপ্রিয় নেতাকে ‘শীর্ষ চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা সচেতন মহলে চরম হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন: জোরালো আহ্বান

রনিকে হয়রানি করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার খবরে ফতুল্লা এলাকাসহ নারায়ণগঞ্জজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

শত শত মানুষ রনির পক্ষে তাদের অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং এই ধরনের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রনির বিরুদ্ধে কেন এই ষড়যন্ত্র? ঐ কর্মকর্তার কাছে কী প্রমাণ আছে যে রনি চাঁদাবাজ? রনি কবে, কার কাছে চাঁদা চেয়েছেন? তার বিরুদ্ধে কোনো থানায় কেন কোনো অভিযোগ নেই? কেন কোনো গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক রিপোর্ট নেই?

এই ঘটনায় ঐ গোয়েন্দা কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর জোরালো দাবি, অবিলম্বে ঐ বিতর্কিত এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

একইসােথে, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় যারা এমন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সর্বস্তরের সমর্থন ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা

রনিকে বিরুদ্ধে অপপ্রচারের পর ফেসবুকে শত শত মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং রনির পক্ষে তাদের শক্ত সমর্থন জানিয়েছেন।

তারা এই ধরনের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

  • আনোয়ার হোসেন নামের একজন লিখেছেন, “আমরা রনির বিরুদ্ধে এই ধরনের রিপোর্টের খবরে চরমভাবে চিন্তিত এবং ষড়যন্ত্রকারীদের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত আড়াইহাজারের ঐ চিহ্নিত চাঁদাবাজ নেতার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, রনির বিরুদ্ধে নয়। রনি কেমন নেতা আমরা সেটা ভালো করে জানি। আমরা রনির বিরুদ্ধে এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

  • মামুন ইসলাম লিখেছেন, “রনি ভাই দলের দুর্দিনের কান্ডারী, জিয়ার অকুতোভয় সৈনিক। তার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র আমরা বরদাস্ত করব না। বরং ষড়যন্ত্রকারীদেরকে আমরা দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি।”

  • ফতুল্লার শিল্পপতি কাজী এনামুল ফেরদৌস মনা এই বিষয়ে আরও জোরালো মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “রনি আমাদের সন্তান তুল্য। সে চাঁদাবাজি করা তো দূরের কথা, বরং আমাদেরকেই আসল চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। ৫ আগস্টের পর অতন্দ্র প্রহরীর মতো রনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই আজ যারা রনিকে চাঁদাবাজ বানাতে চায়, তারা নিজেরাই চাঁদাবাজ। হয়তো রনির প্রতিরোধের কারণেই তারা এখন আর চাঁদাবাজি করতে পারছে না। আর এ কারণেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে উল্টো তাকেই চাঁদাবাজ বানাতে চাইছে।” তিনি এমন ন্যক্কারজনক কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনকে এসব বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে আড়াইহাজারের ঐ নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে এবং রনির প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা হচ্ছে।