আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রশাসনের জন্য টেস্ট কেইস: আবদুল জব্বার

18

আগামীকাল ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে  প্রশাসনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ‘টেস্ট কেইস’ হিসেবে দেখছেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির ধারণা দিতে পারে।

মাওলানা আবদুল জব্বারের ‘টেস্ট কেইস’ মন্তব্য 
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাওলানা আবদুল জব্বার এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আসন্ন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রশাসনের জন্য টেষ্ট কেইস।”

বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হলে তা প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, আর বিতর্কিত হলে তারা জনগণের আস্থা হারাতে পারে। এমন ভাবনা থেকেই আবদুল জব্বার এই পোস্ট দিয়ে থাকতে পারেন। তারা আবদুল জব্বারের এই পোস্টকে সমর্থন দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দেশে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তারা আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের সকল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ জনগণ সকলের চোখ এই নির্বাচনের দিকে রয়েছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: ত্রিমুখী লড়াই
আগামীকাল ২৮ আগস্টের এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন অঙ্গনে এক বিশেষ উত্তেজনা বিরাজ করছে। মূলত, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি এবং জামায়াত সমর্থিতদের একটি প্যানেল সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্যানেলসমূহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা 
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের (Nationalist Lawyers Forum) নেতৃত্বে আছেন অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান যারা পূর্ণ ১৭ জনের প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর বিপরীতে, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা এবং অ্যাডভোকেট শেখ মো. গোলাম মোর্শেদ গালিবের নেতৃত্বে ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ ১৪টি পদের জন্য লড়াই করছে (যদিও ২ জন সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন)।

অপরদিকে, জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল অ্যাডভোকেট এ হাফিজ মোল্লা ও অ্যাডভোকেট মোহা মাঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭ জনের পূর্ণ প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে  এই নির্বাচনকে ঘিরে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।