নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু

16

ফতুল্লার শেহারচরে বৃষ্টিভেজা বাড়িতে পাম্পের বিদ্যুতেই চিরবিদায় নিলেন মা ও মেধাবী শিক্ষার্থী কন্যা লামিয়া। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী আকাশ-বাতাস।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক চরম হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেহারচর এলাকার নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

নিহতরা হলেন শেহারচর এলাকার আমির আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীন (৫০) এবং তাদের একমাত্র কন্যা, স্থানীয় সরকারি তোলারাম কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার (২৪)। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এবং আশেপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে স্বামী আমির আলী ঘরে ফিরে বাড়ির পেছনে তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন এবং মেয়ে লামিয়া আক্তারকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও মেয়ে উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) কাজী আবুল বাসার প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে বলেন, “শেহারচর এলাকাটি তুলনামূলক নিচু। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে নিহতদের টিনশেড ঘরে পানি ঢুকে গিয়েছিল। সেই পানি সেচার জন্য একটি বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পাম্পের বিদ্যুতেই আকস্মিকভাবে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।”

এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এলাকার জলাবদ্ধতাই মূলত দুর্ঘটনার কারণ। বৃষ্টির পানি বাড়িতে ঢুকে যাওয়ায় সেই পানি নিস্কাশনের জন্য বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহার করতে গিয়েই মা ও মেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন বলে তাদের দাবি।