সাদাপাথর লুটের ‘মূলহোতা’ বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন গ্রেপ্তার

6
র‍্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন।
সিলেটের সাদাপাথর লুটের 'মূল হোতা' হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের মুহূর্ত।

সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটের ঘটনায় প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন। এই গুরুতর অভিযোগের মুখে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। অবশেষে, দীর্ঘদিনের পলাতক এই ‘মূল হোতা’কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাব।

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন সাহাব উদ্দিন:

র‍্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে র‍্যাবের একটি বিশেষ দল সিলেট নগরের কুমারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাহাব উদ্দিন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। র‍্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। র‍্যাব জানিয়েছে, আলোচিত সাদাপাথর লুট ছাড়াও সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও সাতটি মামলা রয়েছে।

সাহাব উদ্দিনের পরিচয় ও অভিযোগ:

সাহাব উদ্দিন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। সাদাপাথর লুটকাণ্ডে তার নাম আসার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে তার সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এছাড়াও, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে সাদাপাথর লুটেরাদের তালিকায় সাহাব উদ্দিনের নাম উঠে আসে।

গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব-৯ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর র‍্যাব-৯ এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সাহাব উদ্দিনকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় খনি ও খনিজসম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

অতীত অভিযোগ ও দলীয় পদক্ষেপ:

সাহাব উদ্দিন একজন প্রতিষ্ঠিত পাথর ব্যবসায়ী এবং ভোলাগঞ্জ পাথর আমদানিকারক সংগঠনেরও নেতৃত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে একটি চক্র ভোলাগঞ্জে সক্রিয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ই আগস্টে ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক পাশের রিসোর্ট ও রোপওয়ে বাঙ্কারে হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, ভোলাগঞ্জ শুল্কস্টেশন এলাকার সরকারি জমি দখল, পাথরমহালের জমি ভাড়া দেওয়া সহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

৫ই আগস্টের বছরপূর্তিতে সাদাপাথর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাজি সাহাব উদ্দিনের লোকজনেরা তার নাম ব্যবহার করে রীতিমতো দখলযজ্ঞ চালিয়ে পাথর লুটপাট শুরু করে।

বিএনপি সূত্র মতে, ১১ই আগস্ট রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিএনপির নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সকল দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।’