
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল, বাউন্ডারী দেয়াল ভাংচুর এবং গাছ কেটে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী মিসেস রাজিয়া সুলতানা শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযুক্ত আওলাদ হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ও জিডি’র বিবরণ:
জিডিতে মিসেস রাজিয়া সুলতানা উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন গোপচর মৌজাস্থিত সি.এস-৪৯৭, এস.এ-২০১ ও আর.এস ৫৫০ এবং ৩০০ নং দাগে তার মালিকানাধীন ২১.৫০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছে নরসিংপুরের মৃত মালেক মাতবরের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪৫), তার অনুসারী দুলাল ও গিয়াস উদ্দিনসহ আরো ৪/৫ জন।
জিডিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে মিসেস রাজিয়া সুলতানাকে হুমকি-ধামকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার সকালে তারা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারী দেয়াল ভাংচুর করে এবং জমিতে থাকা ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ভাংচুরের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ এবং পূর্বের অভিযোগ:
এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে, যেখানে ধারালো কাচি দিয়ে অভিযুক্ত আওলাদ হোসেনকে নিজ হাতেই জমিতে থাকা গাছ কাটতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও এই একই জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ভুক্তভোগী মিসেস রাজিয়া সুলতানা ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও বেপরোয়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আওলাদ হোসেনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা আওলাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এই জমি আমার। আমার জমিতে উনি গাছ লাগিয়েছেন, তাই আমি গাছগুলো কেটে ফেলেছি। বিষয়টি সামাজিকভাবে বিচারাধীনও আছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ফতুল্লা মডেল থানা সুত্রে জানা গেছে, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।







