ফতুল্লায় পরকীয়ার বলি গৃহবধূ সুমা: স্বামী শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

20
ফতুল্লায় গৃহবধূ সুমা হত্যার ঘটনায় স্বামী শহীদুল্লাহ গ্রেফতার ও আদালতে স্বীকারোক্তি।
নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় গৃহবধূ সুমা হত্যার ঘটনায় স্বামী শহীদুল্লাহকে পিবিআই গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত গৃহবধূ সুমা আক্তার (৩০) হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী তার স্বামী মোঃ শহীদুল্লাহ (৩৮)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)

ঘটনার শুরু:

গত ০৭ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকায় নিজ বাসায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন গৃহবধূ সুমা আক্তার। নিহতের বোন মোসাঃ সাজেদা খাতুন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা (নং-৯৬/২০২০) দায়ের করেন।

প্রথমে নিহতের মা ধারণা করেছিলেন, অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করতে এসে তার মেয়েকে হত্যা করেছে। সেই অনুযায়ী পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন হিসেবে সুমার বোন সোহানা আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার অগ্রগতি

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মামলাটি পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হলে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে। এ সময় পূর্বে গ্রেফতার হওয়া সোহানাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে।

পরে পিবিআইয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয় যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের স্বামী শহীদুল্লাহ।

গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি

অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ২:৩০ টায় ফতুল্লা এলাকা থেকে শহীদুল্লাহকে গ্রেফতার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তার শ্যালিকা সোহানার সাথে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো বটি দিয়ে স্ত্রী সুমাকে হত্যা করে

পরে ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে শহীদুল্লাহ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পিবিআই জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে আরও একজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।