শিশুর জীবন রক্ষায় ‘নিরাপদ ঘুম’ অপরিহার্য: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

6

নবজাতক ও ছোট শিশুদের আকস্মিক মৃত্যু (Sudden Infant Death Syndrome – SIDS) ও ঘুম-সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে অভিভাবকদের “নিরাপদ ঘুম” (Safe Sleep) নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ শিশু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম এক বছর সঠিক ঘুমের অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের অসচেতন কিছু অভ্যাস শিশুর জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অথচ অল্প কিছু নিয়ম মানলেই শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

প্রধান নির্দেশনা সমূহ

১. সর্বদা চিত করে শোয়ানো

নবজাতক থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে সবসময় চিত করে (পিঠের উপর) শুইয়ে দিতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “চিত করে শোয়ানোই শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। এটি শ্বাসরোধের ঝুঁকি কমায় এবং ফুসফুসে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখে।”

২. শক্ত ও সমতল বিছানা

শিশুকে ক্রিব, বেসিনেট বা অনুমোদিত শক্ত বিছানায় শোয়ানো উচিত। নরম গদি, সোফা বা ফোমের বিছানা ব্যবহার করলে শ্বাসরোধের ঝুঁকি বাড়ে।

৩. ঘুমের জায়গায় নরম জিনিস নয়

খেলনা, বালিশ, কম্বল বা বাম্পার প্যাড শিশুর শোবার জায়গায় রাখা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “বিছানায় অতিরিক্ত খেলনা বা বালিশ রাখা শিশুর শ্বাসরোধের অন্যতম কারণ। ঘুমের স্থান সবসময় ফাঁকা রাখতে হবে।”

৪. একই ঘরে, আলাদা বিছানায়

শিশুকে প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মায়ের ঘরে, তবে আলাদা ক্রিব বা বেসিনেটে ঘুম পাড়ানো উচিত। এতে দুর্ঘটনা বা শ্বাসরোধের ঝুঁকি কমে।

৫. অতিরিক্ত গরম এড়ানো

শিশুকে গরম কাপড় বেশি পরানো বা ঘর অতিরিক্ত গরম রাখা উচিত নয়। স্বাভাবিক ঘরের তাপমাত্রাই নিরাপদ।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

শিশুর পরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।

মুখচোষা (Pacifier) SIDS-এর ঝুঁকি কমায়, তবে স্তন্যপান অভ্যাস গড়ে ওঠার পর ব্যবহার করা ভালো।

বুকের দুধ খাওয়ানো SIDS প্রতিরোধে কার্যকর।

সময়মতো টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নিরাপদ ঘুমের নিয়মগুলো মানা একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। অভিভাবকদের সচেতনতা শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।”