
বিএনপির ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আড়াইহাজারে তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত নজরুল ইসলাম আজাদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। একই মঞ্চে উঠে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আড়াইহাজারে এক আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী পারভীন আক্তার উপস্থিত হয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভায় পারভীন আক্তার বলেন,
“আমাদের নেতাকর্মীরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। শেষ পর্যন্ত কেউ মাঠ ছাড়ব না। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন,
“আমরা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আড়াইহাজারের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তারা শান্তি চায়। আমরা সেই বিএনপির পক্ষে আছি, যেই বিএনপি মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, যেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে লড়ছে।”
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর বলেন,
“যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা আড়াইহাজারবাসী মেনে নেয়নি। আমরা পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ করেছি। আমি আশা করি দল সঠিক মানুষকেই মনোনয়ন দেবে। আমরাও সেই প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামব।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা নির্বাচন করব—ইনশাল্লাহ করব। এবার জনগণ ভোট দিতে পারবে, সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে ধানের শীষ বিজয়ী হবেই।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজারে ঘোষিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা বলছেন, আজাদের প্রার্থী ঘোষণায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশ। তাদের দাবি, “ত্যাগী ও মাঠে থাকা নেতাদের উপেক্ষা করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, ঘোষিত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্র। কোনো প্রার্থী ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হলে বা বিরোধ মীমাংসা না হলে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন,
“কিছু আসনে ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে পরিবর্তন আনা হবে। ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে সেটির দায় প্রার্থীকে বহন করতে হবে।”
সবমিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর দলীয় অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মাঠে ঐক্যবদ্ধ আঙ্গুর, সুমন ও পারভীন এখন কার্যত প্রার্থী পুনর্বিবেচনার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।







