চোখে গুলি লাগার পরও দমে যাননি রাকিবুর রহমান সাগর

রাজপথের লড়াকু সৈনিকের গল্প

2
চোখে গুলি লাগার পরও দমে যাননি রাকিবুর রহমান সাগর
চোখে গুলি লাগার পরও দমে যাননি রাকিবুর রহমান সাগর

রাজনীতি মানেই ত্যাগ, আর ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক নাম অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগর। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি ও বর্তমান যুবদল নেতা প্রমাণ করেছেন, আদর্শের লড়াইয়ে শরীরের রক্ত ঝরলেও মনোবল ভাঙা সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে চোখে ও কপালে বিদ্ধ হওয়ার পরও দমে যাননি তিনি; বরং দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দেশ ও দলের কাজে।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে যখন রণক্ষেত্র তৈরি হয়, তখন সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাকিবুর রহমান সাগর। পুলিশের ছররা গুলিতে তার চোখ ও কপাল মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। হাসপাতালে যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও তার চিন্তা ছিল রাজপথের কর্মীদের নিয়ে। সেই ক্ষত আজও তাকে সেই সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়, কিন্তু তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন সাগর। সিদ্ধিরগঞ্জ ও মহানগর এলাকায় ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে বারবার তাকে পুলিশের বুলেটের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, সাগর শুধু একজন নেতাই নন, তিনি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভ্যানগার্ড’। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি আবারও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে।

বর্তমানে যখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ‘ভাই কেন্দ্রিক’ বা গ্রুপিংয়ের চর্চা লক্ষ্য করা যায়, তখন রাকিবুর রহমান সাগর দলীয় নির্দেশনার প্রতি অবিচল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে তিনি দিনরাত এক করে কাজ করছেন। সাগরের ভাষ্যমতে, “কে কোন ভাইয়ের রাজনীতি করলো সেটা বড় কথা নয়, দেশনায়ক তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বিজয়ী করতে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাগর। সরকারি অনুদানের অপেক্ষা না করে নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে নিজ এলাকায় রাস্তা নির্মাণসহ নানা জনহিতকর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নে তার এই ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছে তাকে দিন দিন জনপ্রিয় করে তুলছে।

বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত এই নেতা বিশ্বাস করেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই ছাত্রদল ও যুবদলের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। তার অসমাপ্ত কাজ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের মিশন সফল করতে আমরা রাজপথ ছাড়বো না। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর।”

চোখে বুলেটের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে আজও রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো রাকিবুর রহমান সাগর নারায়ণগঞ্জের তরুণ নেতাকর্মীদের কাছে সাহসের এক মূর্ত প্রতীক। তার এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।