
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথমে মনোনয়ন পান শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজে থেকে সরে যান। এরপর আসনটি পান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান, যিনি অফিসিয়ালভাবে ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন।
যদিও এই পদক্ষেপের পর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেন যাতে সাখাওয়াত হোসেন খান বা নিজেকে উভয়কেই মনোনয়ন না দেওয়া হয়। টিপু বিএনপি কেন্দ্রে চিঠি লিখে নিজের মনোনয়ন দাবি করেন। একই সময়ে দলের অভ্যন্তরে সাখাওয়াৎকে অযোগ্য, নারায়ণগঞ্জের বহিরাগত এবং অজনপ্রিয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফলে কেন্দ্র দুইজনের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে এডভোকেট আবুল কালামকে বেঁছে নেয়। যদিও বিগত পনেরো বছরের আন্দোলন সংগ্রামে এডভোকেট আবুল কালামের কোনো ভূমিকাই ছিলো না বলে সাখাওয়াত এবং টিপু দুজনেই দাবি করে এসেছেন।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, এডভোকেট সাখাওয়াত মোটেও অযোগ্য নন। তিনি গত পনেরো বছর ধরে দলের জন্য ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথে থেকে মার খেয়েছেন, জেলও খেটেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীদের মামলা প্রায় বিনা মূল্যে লড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতো, তিনি বিজয়ী হতেন এবং একজন তরুণ এমপি হিসেবে এলাকার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন।
দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং দ্বন্দ্বের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দুইজনকেই বাদ দিয়ে সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়ার। এরপর নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন এবং শপথ গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সূত্র বলছে, সাখাওয়াৎ হোসেন খানকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে। এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রভাব ও কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ও সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ স্বার্থ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিলে দলের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ ভোটারের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।







