
নারায়ণগঞ্জ সমাচার:
উদ্বোধন করা না হলেও নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই শেখ রাসেল পার্কের রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলো হকাররা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো পথচারীদের। তবে, সম্প্রতি দুজন ভিআইপি পার্ক পরিদর্শনে আসবেন বলে হকারদের সরিয়ে দেয়া হয়। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পার্কটি হকার মুক্ত হওয়ায় খুশী নগরবাসী। একইসাথে নগরমাতা আইভীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা দাবি করেছেন, পার্ক দখল করে হকারদের যাতে আর বসতে না দেয়া হয়।
নগরবাসী ও পথচারীদের মতে, মেয়র ডা. সেলিনা হায়ৎ আইভী নগরবাসীকে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার যে ব্রত নিয়ে শেখ রাসেল পার্ক নির্মাণ শুরু করেছিলেন, প্রকৃত অর্থে তা আজ কার্যকর হয়েছে। কেননা এতোদিন পার্কের চারপাশের হকারদের যন্ত্রণায় হাটা-চলা মুশকিল হয়ে পড়েছিলো সাধারণ দর্শনার্থীদের। তবে, যে কারণেই হোক না কেন হকারমুক্ত এ পার্কের আশেপাশে যেন আর হকারযুক্ত হতে না পারে সে লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে খোদ মেয়র আইভীকে এমনটাই মনে করে নগরবাসী।
জানা গেছে, পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই এর চারপাশে হকার বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অনেকে বলেন, এসব ধান্ধাবাজরা মূলত মেয়র আইভীর ভাই যুবলীগ নেতা উজ্জল ও আওয়ামীলীগ নেতা জি এম আরাফাতের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করতো। এ দুই গ্রুপের অনুসারীদের মাঝে বেশ কয়েকদফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানায় স্থানীয়রা।
তবে, দেওভোগের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে পরিচিত, ক্লিন ইমেজের অধিকারী, উদীয়মান এ দুই নেতার অনুসারীদের দাবী, যে সকল টোকাইরা টং দোকান বসিয়ে হকারদের কাছ থেকে ভাড়া তুলে নিজেদের সংসার চালায় এরা কেউই উজ্জল ও আরাফাতের অনুসারী নয়। ধান্ধাবাজ ও চান্দাবাজরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মূলত এ দুই নেতার নাম ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, পার্কের যে সৌন্দর্য্য মূলত এখন তা দৃশ্যমান। তবে, যদি আবার এসব টংগুলো বসানো হয় তাহলে পার্কটি পুনরায় তার সৌন্দর্য্য হারাবে। তাই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত যাতে হকাররা রাস্তা ও ফুটপাত আর দখল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। এতে দর্শনার্থী ও বিনোদন পিপাসু জনসাধারণ মনোরম পরিবেশে প্রকৃতির যে সৌন্দর্য্য তা উপভোগ করতে পারবে।
জীবনের পড়ন্ত বেলায় স্বাস্থ্যগত জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন রাতে হাটতে আসা বয়:বৃদ্ধ সোবহান মিয়া বলেন, আগে পার্ক ছিলো না বলে জিমখানায় বা খানপুরে গিয়ে হাটতে হতো। এখন এ পার্কটি হওয়ায় পার্কের চারপাশেই হাটাহাটি করি, এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু হকারদের দোকানপাট, চেয়ার-টেবিল ও হাক-ডাকের কারণে খুব ভোগান্তি পোহাতে হতো। তবে, বিগত চার-পাঁচদিন যাবৎ হকারমুক্ত যে পরিবেশ দেখছি তাতে বেশ ভালোই লাগছে। আসলে এমনই তো হওয়ার কথা ছিলো বলেন তিনি।এছাড়াও মেয়র আইভীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পার্কটি হকারমুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের চারপাশ উন্মুক্ত। হাটা-চলা করতে বেশ স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করছে পথচারীরা। এমনকি রাস্তা দিয়ে রিক্সা বা গাড়িতে করে যাওয়ার সময়ও পার্কের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারছে নগরবাসী, যা এতোদিন হকারদের কারণে দেখা যেতো না। কথা হয় পার্কে হাটতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে, তারা প্রত্যেকেই চান হকারমুক্ত মনোরম পরিবেশযুক্ত উন্মুক্ত রাসেল পার্ক।







