
নারায়ণগঞ্জ সমাচার:
১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় সফল মহাসমাবেশ করে ক্ষমতাসীণ দলকে বড় ধাক্কা দিতে চায় বিএনপি। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সমগ্র দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও রাজনীতির মাঠ দখলে রেখেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিপরীতে বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবেনা উল্লেখ করে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা বারবার বক্তব্য রাখলেও ঢাকার সবচেয়ে নিকটবর্তী এই জেলায় বর্তমানে ঘরবন্দি অবস্থায় আছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উভয় দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন জোরালোভাবে মাঠের আন্দোলনে নামলেও আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে এখন পর্যন্ত সেভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। সবশেষ গত ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন উপলক্ষ্যে ইসদাইরস্থ ওসমানী স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হয় স্টেডিয়ামে। সেদিন শামীম ওসমানের সাথে তাল মিলিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘খেলা হবে’ বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ডিসেম্বর জনতার সমুদ্রের গর্জন ঘটবে, শুনতে পাবেন।” এর পরে আসবে সাগরের গর্জন।
সর্বশেষ যুবলীগের সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাকার যুব সমাবেশে যোগ দেয়। এরপর স্থানীয়ভাবে আর বড় কোনো কর্মসূচি হাতে নিতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে। তবে, এই একই সময়ে সরকারের নানা কর্মকান্ডের বিরোধীতা করে লাগাতার কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের এখনো এক বছরের বেশি সময় বাকি আছে। বিএনপির এই সব কর্মসূচী ধান্ধাবাজির অংশ। তাই এখন পাল্টা কর্মসূচির কোনো মানে হয় না। তাছাড়া এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশ সরাসরি আমাদের কাছে আসে নাই। কেন্দ্র থেকে সকল নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা আসলে আমরাও মাঠে নামবো।
জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম সোজা সাপটাকে বলেন, বিএনপি রাজপথে নামতাছে, ওরা একটা ধান্ধাবাজি করতাছে, একটা স্যাবোটাইজ করার চিন্তা ভাবনা করতাছে। ওদের কতটুকু স্ট্যান্ড আছে তা বিএনপি ভালো করেই জানে। আমাদের সময় হলে আমর নামবো। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করবো।
একইবিষয়ে শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া সাজনু বলেন, আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠন গুছানো আছে। এখন ইন ডাইরেক্টলি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা নির্দেশনা পাচ্ছি, তবে কেন্দ্র থেকে যখন সরাসরি নির্দেশনা আসবে আমরা তখন মাঠে থাকবো। এছাড়া, ১০ ডিসেম্বর আমরা মাঠে থাকবো।
এদিকে ক্ষমতাসীনরা রাজপথে পুরোপুরি সক্রিয় না থাকলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে মাঠে রয়েছে বিএনপি। নানা কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নেতাকর্মীদের হামলা ও হত্যার প্রতিবাদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বেশ কিছু দাবিতে মাঠে রয়েছে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তাছাড়া রাজধানী ঢাকাও কেন্দ্রীয় নানা কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছে তারা।
বিগত ৩ মাসের বেশী সময় ধরে নানা ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে রাজনীতির মাঠে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রভাবশালী নেতারাও। জানা গেছে, ঢাকার মহাসমাবেশ শেষ হওয়ার পর মাঠ দখলে আরও সক্রিয় হবে তারা। তাই পরবর্তী কর্মসূচি পালনে প্রস্তুতি নিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, রাজপথ সকলের, সকল দলই রাজপথে থাকতে পারবে। এখানে দখলের কোনো বিষয় নয়। আমরা ন্যায্য দাবিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের কথা বলছি, সভা-সমাবেশ করছি। তাই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও এতে অংশ নিচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তত বাড়ছে। সরকারী দলেরও উচিত আমাদের কর্মসূচীতে কোনো বাধা না দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা।
একই বিষয়ে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, আওয়ামীলীগ সবসময়ই ফাকা বুলি ছাড়ে, তারা কখনোই আমাদের পাত্তা দিতে চায়না। কিন্তু এতো দিনের হামলা-মামলা, অত্যাচার-জুলুম নির্যাতনের পরেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগ দেয়নি বা দল ত্যাগ করে নাই। বরং নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগনও আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে। আওয়ামীলীগ যতো চাপাচাপি করবে, বিএনপি নেতাকর্মীরা ততো বেশী উজ্জীবিত হবে। ১০ তারিখের সমাবেশ আমরা সফল করবোই। এই মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে কোনো নেতৃবৃন্দের জন্য অপেক্ষা করছেনা নেতাকর্মীরা। তারা যার যার মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।







