নারায়ণগঞ্জকে শান্তির শহরে পরিণত করতে নিরলস পরিশ্রম করছেন সেলিম ওসমান

31

নারায়ণগঞ্জ সমাচার:

একসময় দেশবাসীর কাছে গুম-খুন ও আতঙ্কের নগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তির শহরে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের মেঝো ছেলে একেএম সেলিম ওসমান। যিনি একাধারে ব্যবসায়ী, কৃষক, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, দানবীর, রাজনীতিবীদ, অসহায়ের বন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসী তথা দেশবাসীর কাছে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

ওসমান পরিবার মানেই রাজনৈতিক পরিবার। সেই বৃটিশ শাসন থেকেই রাজনীতির সাথে কোন না কোনভাবে যুক্ত আছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এই ওসমান পরিবার। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’এ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ ও ৭৫’র নৃশংস হত্যাকান্ডের পর প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও জড়িয়ে আছে ওসমান পরিবারের নাম। এখন চলছে সেই ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের রাজনীতি।

সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই বাংলাদেশের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। টানা ৬ বার সভাপতি হয়ে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশের নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন ওসমান পরিবারের এই সন্তান। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরসহ মোট ১১ বার পেয়েছেন সিআইপি সম্মাননাও।

ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি সেলিম ওসমান নিজেকে একজন কৃষক হিসেবেও পরিচয় দেন সকলের কাছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে তিনি নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে দাবি করে থাকেন। খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে প্রায় ৩০ একর জমি নিয়ে রয়েছে তার কৃষি খামার। যেখানে তিনি ৬’শ গরু, ৩’শ ছাগল, ২৫০টি ভেড়া, বিভিন্ন প্রজাতির ২ লাখ ৫০ হাজার পিছ মাছ, পালন করে আসছেন দীর্ঘ এক যুগ ধরে। এছাড়াও রয়েছে ক্ষেতের ধান, আম, কাঠাল সহ দেশীয় মধুফলের বিশাল বাগান। যেখান থেকে কৃষক সেলিম ওসমানের প্রতি মাসের আয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা যার বাৎসরিক পরিমান ৩ কোটি টাকা। আর এ কৃষিখাত থেকে আয় হওয়া পুরো টাকাটাই নারায়ণগঞ্জের সাধারণ জনগনের কল্যাণ ও উন্নয়নে অনুদান দিয়ে ব্যয় করে থাকেন তিনি।

এদিকে, ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের আকস্মিক মৃত্যুর পরে শহর-বন্দরবাসীর হাল ধরেন তারই ছোট ভাই সেলিম ওসমান। সেই থেকে ভাইয়ের অপূর্ণ ইচ্ছাগুলো পূরণ করার লক্ষ্যে এবং নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি শান্তির শহর উপহার দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এমপি হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে নিজ অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে দাড়িয়ে পেয়েছেন নানা উপাধি। নাসিম ওসমান শীতলক্ষ্যা ৩য় সেতু, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরী সার্ভিস চালুসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে জনবান্ধন নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন অল্প সময়েই।

শিক্ষাখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা অনুদান দেয়াসহ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সৃষ্টি ও ভবন নির্মাণসহ ডিজিটাল ল্যাব, ল্যাপটপ-কম্পিউটারসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগীতা করে শিক্ষানুরাগী ও দানবীর খেতাবও পেয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী নাতি-নাতনীর দাদু হিসেবে পরিচিত সেলিম ওসমান। নির্মাণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ কলেজে নতুন ১০তলা ভবন, শহরের মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা ফজিলেতুন্নেছা মুজিব ভবন, নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরে জমি কেনা থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ সবই সেলিম ওসমানের অর্থায়নে হয়েছে। বন্দরের শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবনের উন্নয়ন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, দেওভোগে বিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি, তার ফার্মের গরু বিক্রির ৪ কোটি টাকার মধ্যে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন নিজ¦ সংসদীয় আসনের বন্দর থানাধীণ নবীগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার জন্য।

পেশাজীবি সংগঠনের উন্নয়নেও সর্বদা সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন গুনী এই রাজনীতিবীদ। নিজ্ব অর্থায়নে ৫ কোটি টাকার অনুদান দিয়ে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের জন্য আধুনিক বার ভবন নির্মাণ করেছেন। প্রতি বছর রমজান মাসে শহরের যানজট নিরসনের লক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন এই সংসদ সদস্য। সম্প্রতি মেম্বারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের উন্নয়নেও পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

এখানেই শেষ নয়, নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তির শহরে পরিণত করতে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে সকল দল ও মতের নেতৃবৃন্দদেরকে বেশ কয়েকবার এক টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এ সংসদ সদস্য। বেশ কয়েকটি সভায় বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরকে সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ আধুনিক শহরের পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্প অঞ্চলে রুপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জকে শান্তির শহর বানাতে চাই। নারায়ণগঞ্জে মানুষ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে সে ব্যবস্থা করতে চাই। নারায়ণগঞ্জ ছিলো প্রাচ্যের ডান্ডি। সেই প্রাচ্যের ডান্ডি ফিরিয়ে আনতে হবে। আমি কোনো হিংসা বিদ্বেষ রাখতে চাইনা। আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে চাই। নারায়ণগঞ্জের একটি মানুষও যেন বেকার না থাকে।’ এ লক্ষ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জের অপর ৪ এমপি ও সিটি মেয়রকে নিয়ে এক টেবিলে বসে কাজ করার ইচ্ছাও পোষণ করেছেন এবং বেশ কয়েকবার সকলকে একসাথে বসার আহবানও জানিয়েছিলেন।

এসবের পাশাপাশি এমপি হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই নিজ¦ দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন খ্যাতিমান এ ব্যক্তি। একইসাথে সাথে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবেও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি অনুদান দিয়েছেন তার প্রায় সবগুলোতেই বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ হওয়ার কারণে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু স্কুলের প্রতি তার রয়েছে বিশেষ নজর। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, নিজের মতো দেশের সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধায় বন্দরে নির্মাণ করেছেন সমরক্ষেত্র। যেখানে জাতীয় দিবসগুলোতে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন তিনি। এমনকি দেশের বাইরেও (সংযুক্ত আরব আমিরাতে) বঙ্গবন্ধু স্কুল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে, করোনাকালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষদের জন্য নিজ অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে অস্থায়ীভাবে উন্নত আবাসস্থল ও খাবারের ব্যবস্থা করাসহ কাউন্সিলর খোরশেদকে অনুদান, স্বেচ্ছাসেবকদের অর্থ সহায়তা প্রদান ও করোনা আক্রান্তদের আনা নেওয়ার কাজে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিলো সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে। এছাড়াও সরকারের তহবিল থেকে প্রাপ্ত সহযোগীতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সহযোগীতা পৌছে দেন করোনার থাবায় নি:স হয়ে পড়া অসহায় মানুষদের মাঝে। এর বাইরেও প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ের মাধ্যমে ঈদ উপহার পৌছে দিয়েছিলেন সেলিম ওসমান।