আইভীকে সাথে নিয়ে মানুষকে শান্তি দিবো – সেলিম ওসমান

19

নারায়ণগঞ্জ সমাচার:

নিজ্ব নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে আইভীকে সাথে নিয়ে ভাই বোন মিলে মানুষকে শান্তি দিতে চান সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, আমি এবার প্রয়োজন বোধ করেছি, তাই নির্বাচনের প্রচারণার আগেই আমার অত্যন্ত আপনজন, ছোট বোন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভীর অফিসে গিয়ে তার কাছে সহযোগীতা চাইলাম। তাকে বললাম যে, আমি যদি এবার নির্বাচনে যাই এবং যদি জয়ী হই তাহলে আমাদের সিটি কর্পোরেশনের যে কয়টা ওয়ার্ড আছে, সবগুলো নতুন করে সাজিয়ে আমি আর তুমি, আমরা ভাই-বোন মিলে মিলে মানুষকে শান্তি দিবো।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পাট আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন লাভলু’র সভাপতিত্বে ও নাসিক ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সঞ্চালনায় নলুয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি একথা বলেন।

সেলিম ওসমান বলেন, অনেকে বলেন আমি নাকি ৮০ ভাগ কাজ করে ফেলেছি। ৮০ ভাগ কাজ করে ফেললে তো আমার আর কোনো দরকার ছিলো না। আমি মনে করি, ২০ ভাগ কাজ হয়েছে, ৮০ ভাগ কাজ বাকী আছে। বঙ্গবন্ধুর নামে স্কুল, মর্গ্যাণ স্কুলে বেগম ফজিলাতুন্নেছা ভবন, নারায়ণগঞ্জ কলেজে শেখ কামালের নামে ৭ তলা ভবন, শেখ জামাল স্কুল, শেখ রাসেল স্কুল, আমার বাবা একেএম শামসুজ্জোহা, মা নাগিনা জোহা, বড় ভাই নাসিম ওসমানের নামে স্কুল বানাতে পেরেছি। জায়গা কিনে আরেকটি স্কুল বানিয়ে সরকার থেকে দৌড়াদৌড়ি করে ওখানে আবার একটা ৬তলা ভবন বানালাম। সবাই আনন্দ উৎসবে নাম দিয়ে দিলো নাসরিন ওসমান ভবন। মানুষের জন্য করতে পেরেছি। অনেক লোভ ছিলো, তাই মানুষের জন্য করতে পেরেছি। কারণ আমি জানি, আমি যত বড়ই অপরাধী হয়, যত বড়ই পাপী হই, আমি যদি মানুষকে খুশী করতে পারি তাহলে সবচেয়ে বেশী খুশী হবেন মহান আল্লাহ তায়ালা। আমি সেলিম ওসমান যা বলি তাই করি, আর যেটা বলি না, ঐটা করি না।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে আক্ষেপ করে সেলিম ওসমান বলেন, আমি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করি, কিন্তু জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বক্তৃতাই দিতে পারে না। আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের বক্তৃতার কারণে জাতীয় পার্টির নেতারা ফাকেই পড়ে থাকে। আমি জাতীয় পার্টি বুঝি না, আওয়ামীলীগ বুঝি না, আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা।

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথা তুলে ধরে সেলিম ওসমান বলেন, সবার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন শেখ হাসিনা। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, বৃদ্ধ ভাতা, বিধাব ভাতা, শিক্ষার্থীদের ভাতা, যাদের মাথা গোজার ঠাই নেই, তাদেরকে একটি করে প্রায় ৬৫ লক্ষ ঘর দিয়েছেন তিনি। এবার তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এবার সরকার গঠন হলে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীণ থাকবে না। এমন নেত্রী কোথায় পাবেন, যিনি সকলের কথা চিন্তা করেন।

আমার একটা দোষ আছে, অনেকে বলে আমার সাথে নাকি দেখা করা যায় না। অনেকে বলেন, সেলিম ওসমানের সাথে তো দেখা করা যায় না, তার সাথে সরাসরি কথা বলা যায় না। সবকিছুরই একটা মাধ্যম আছে। মাধ্যম অনুযায়ী আসলে অবশ্যই আমি সকলের সাথে কথা বলি। আর সবচাইতে বড় মাধ্যম হলো, আপনাদের এই এলাকার সন্তান কামরুল হাসান মুন্না। ওর সাথে যোগাযোগ করবেন, তাহলে আমার কাছে সব খবর চলে আসবে।

আগামী ০৭ তারিখ সকলকে ভোট কেন্দ্রে এসে উৎসব করে ভোট দিতে বলেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র রূখে দিতে সকলকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। সকলেই কেন্দ্রে যাবেন, উৎসবমুখর পরিবেশে যাবেন। ষড়যন্ত্রকারীদের দেখিয়ে দিবেন, আমরা বাঙ্গালী, আমরা কারো কাছে মাথা নত করি নি, করবোও না।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জি এম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, নাসিক ১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ শারমিন হাবিব বিন্নী, জেলা মহিলালীগ সভাপতি প্রফেসর ড. শিরীন বেগম, মহানগর মহিলালীগ সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, আওয়ামীলীগ নেতা রাজীবুল হাসান রানা, যুবলীগ নেতা তাইফুল হাসান তান্না, শ্রমিকলীগ নেতা রাকিবুর রহমান রিয়ন প্রমুখ।