
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতারের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক মেয়র ডা. আইভী এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হোসেন সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন। এছাড়া, আইভীর দুই ভাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে ।
হত্যা মামলার আসামি
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইভী, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক এমপি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই একটি বিক্ষোভ চলাকালে গার্মেন্টস কর্মী মিনারুল ইসলাম নিহত হন, যার জন্য তাদের দায়ী করা হয়েছে । এছাড়া, ছাত্র-জনতা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার আরও অন্তত ৪টি মামলায় আইভীকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুদকের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন মামলায় আসামী হওয়ার প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ডা. আইভীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। মূলত, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয় ।
গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যারা
গত ১২ এপ্রিল ফতুল্লা থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে আইভীকে গ্রেফতারের দাবি জানান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান।
এর আগে, তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে একাধিকবার বক্তব্য রেখেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারী নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে রাজণৈতিক দলগুলোর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় আজাদ বলেন, আইভী তো এই শহরেই অবস্থান করছে, তাহলে তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে তো মামলা হয়েছে, অচিরেই তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
আইভীর গ্রেফতার দাবি করে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। সর্বশেষ গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এসময় টিপু বলেন, আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বলতে চাই, যারা এই হত্যাকান্ড করেছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। গডফাদার শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, আজমেরি ওসমান ও গডমাদার আইভী এবং যারা এর সাথে জড়িত, তাদের চার্জশীট দাখিল করে অনতি বিলম্বে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া, তার গ্রেফতার দাবি করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবও।
গত ০২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর বিএনপি। এসময় সাখাওয়াত বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান ও আইভীকে জেলে দেখতে চায়। আওয়ামীলীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের জেলে দেখতে চায়। তাদের হাতে ছাত্র-জনতার রক্ত।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন আইভীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সাবেক ছাত্রনেতা মাশুকুল ইসলাম রাজীব।







