
নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি গঠিত একটি এডহক কমিটি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
মূল অভিযোগ উঠেছে—এই কমিটির একজন অভিভাবক সদস্যকে নিয়ে, যার সন্তান দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
১১ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চার সদস্যের একটি এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়।
তবে অভিভাবক সদস্য হিসেবে ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন নামের একজনকে অন্তর্ভুক্ত করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কমিটিতে যুক্ত হতে পারেন না—এমন স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তাকে সদস্য করা হয়েছে।
অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম কি তবে এই স্কুলের জন্য প্রযোজ্য নয়? একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক কীভাবে কমিটিতে আসেন, তা বোধগম্য নয়।”
অনেকের আশঙ্কা, এই ধরনের অনিয়ম স্কুলের সুষ্ঠু পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বিশেষ মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ
অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “শুনেছি একটি বিশেষ মহল তাদের পছন্দের লোকদের কমিটিতে ঢোকাচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।” অনেকেই একে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ সংস্কৃতির অংশ বলেও উল্লেখ করেন।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সায়মা খানমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রশাসনের অবস্থান
বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “দশম শ্রেণির অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে থাকতে পারেন না।”
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এমন কোনো নিয়ম আমার জানা নেই।”
পরে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিলের গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, দশম শ্রেণির অভিভাবকরা কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
তখন ইউএনও বলেন, “গেজেটটি দেখে সিদ্ধান্ত জানাবো।”
কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি
বর্তমানে নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকদের মাঝে এই ইস্যুতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তারা স্কুলের স্বার্থে বিতর্কিত এই কমিটি দ্রুত বাতিল করে, যোগ্য ও অভিজ্ঞ অভিভাবকদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন।







