হাসিনার ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছে কিছু মহল: শামসুজ্জামান দুদু

4
শামসুজ্জামান দুদু নারায়ণগঞ্জে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন।
শামসুজ্জামান দুদু নারায়ণগঞ্জে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান সরকার জাতীয় নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে স্থানীয় নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে, যা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেউ কেউ বুঝে কিংবা না বুঝে শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে পা দিচ্ছে এবং নির্বাচন ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে। আজ বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

আলোচনা সভার প্রেক্ষাপট

‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভাটি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে ‘জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা

শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তৃতায় বলেন, “বর্তমান সরকার জাতীয় নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে স্থানীয় নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে, যা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না।”

নির্বাচন ভন্ডুল করার ষড়যন্ত্রের দাবি

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বলছে পিআর বা অমুক তমুক, তারা আসলে নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে চায়।

নির্বাচন না হলে আবার স্বৈরতন্ত্রে ফেরত যাওয়ার একটা লক্ষণ দেখা দেবে।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “কোনো কোনো মহল বুঝে কিংবা না বুঝে হাসিনার ষড়যন্ত্রে পা দিচ্ছে। কারণ, হাসিনা চায় না নির্বাচন হোক।”

কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গণতন্ত্র ও নির্বাচনের সম্পর্ক

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে নির্বাচনকে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “স্বৈরতন্ত্রের পতন মানে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আর গণতন্ত্রের উত্তরণ মানে দেশে নির্বাচনের বিকল্প নেই।”

যারা গণঅভ্যুত্থানকে শুধু এক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য হয়েছে বলে মনে করে, তাদের বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণ যাকে ভোট দেবে, নির্বাচনের মাধ্যমেই সে ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা

বিগত সরকারের আমলে বিএনপি ও বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন, হামলা-মামলা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনাকে ইতিহাসের বর্বরতম দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।

তথাকথিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কুলাঙ্গার শেখ হাসিনা ব্যাপক অর্থ চুরি করেছে, যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি।

তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণেই বেগম জিয়ার পুত্র কোকো মৃত্যুবরণ করেছেন।

জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের গুরুত্ব

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি এবং জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনোভাবে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে বিভেদ করা যাবে না।

যতক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্রে না ফেরা যায়, ততক্ষণ ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মো. ফারুক রহমান, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কে. এম রাকিবুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আলম সরদার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রমুখ।

বক্তারা সরকারের দমন-পীড়ন এবং ‘পিআর পদ্ধতি’র মাধ্যমে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আয়োজনের চেষ্টার নিন্দা জানান।

অনুষ্ঠান সমাপ্তি

আলোচনা শেষে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

একইসাথে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।