
নারায়ণগঞ্জ সমাচার:
নিজের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্ট বিভ্রান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রবীণ নেতা লুৎফর রহমান খোকা। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্য এবং আস্থা অবিচল রয়েছে। অসাবধানতাবশত কিছু ‘অতিরঞ্জিত’ শব্দচয়ন তার মুখ থেকে বের হওয়ায় তিনি নিজেও ব্যথিত এবং এর জন্য নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করেছেন।
সম্প্রতি ফতুল্লায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে দেওয়া তার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আলোচনার সূত্রপাত হয়।
গত ২৩ জুলাই ফতুল্লায় বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া লুৎফর রহমান খোকার প্রায় ৭ মিনিটের একটি বক্তব্যের একটি ক্ষুদ্র অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই খণ্ডিত অংশে তার কিছু কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে প্রচার করা হয়।
এই বিভ্রান্তি দূর করতে লুৎফর রহমান খোকা একটি ভিডিও বার্তায় তার পূর্ণাঙ্গ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কিছু শব্দচয়ন একটু অতিরঞ্জিত হইছে, যা আমিও ব্যথিত হয়েছি। এটা আমার মতো একজন প্রবীণ নেতার মুখ থেকে বের হওয়ায় আমাকে যেমন ব্যথিত করেছে, বিএনপির সমস্ত স্তরের মানুষকেও আমার মনে হয় ব্যথিত করেছে।”
তিনি জানান, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী নির্বাচনে ফতুল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে যেন দলের পরীক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সেই বার্তাটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, “আমি যা বুঝাতে চেয়েছি যে, এই ফতুল্লা থানার প্রায় ৫ লাখ ভোটের ৮০% বিএনপির। আমরা ধানের শীষ এবং বিএনপির প্রার্থী চাই। কারণ আমরা বিগত দিনে তার একটা ব্যত্যয় দেখেছিলাম। সেই ভয়ে আমি কেন্দ্রকে একটি মেসেজ দিতে চেয়েছিলাম।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল তার মূল বক্তব্যকে পাশ কাটিয়ে একটি খণ্ডিত অংশ দিয়ে তাকে এবং দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
ভিডিও বার্তায় লুৎফর রহমান খোকা তার দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে দলের প্রতি তার গভীর অনুরাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জনাব তারেক রহমান এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও অবিচল বিশ্বাস রয়েছে।”
লুৎফর রহমান খোকা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি দেখে এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে বিষয়টি অনুধাবন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তবুও আমার যে ওই শব্দচয়নটা, সেটা ভুল ছিল আমি নিশ্চিত মনে করি। সেই হিসাবে, আপনাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও সহযোদ্ধা হিসাবে আমি আশা করি আপনাদের মনের দুঃখ দূর হয়ে যাবে।”
তিনি সবাইকে জিনিসটি ভুলে গিয়ে তাকে পুনরায় বুকে ধারণ করার জন্য আবেগঘন আহ্বান জানান। তার এই বিনয়ী দুঃখ প্রকাশ এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে আশা করছেন তার অনুসারীরা।







