
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিজিটাল ভূমি জরিপে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর থেকে নাসিক ১ নং ওয়ার্ডের হীরাঝিলে অবস্থিত গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা হলেন—সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মহসিন আলী সরদার এবং সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম সরকার।
অভিযোগ উঠেছে, গত এক মাস ধরে চলমান ডিজিটাল ভূমি জরিপে জমি ও বাড়ির সঠিক রেকর্ডের জন্য কর্মকর্তারা মোটা অংকের অর্থ দাবি করে আসছিলেন এবং জনগণকে হয়রানি করছিলেন। তাদের এই কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা ফুঁসে ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে মাইকিং করে অন্যান্য ভুক্তভোগীদের ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগ জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়।
ভুক্তভোগী শাহজালাল জানান, ” কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ৮০ হাজার টাকা দাবি করে তারা, ৩০ হাজার টাকায় কাজটি করাতে বাধ্য হই।”
আরেক ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান বলেন, “মূল দলিল না থাকার অজুহাতে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়।
ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান ও আমেনা বেগমকেও যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
“ছাত্রনেতা মেহরাব হোসেন প্রভাত বলেন, দুর্নীতির খবর পেয়েই তারা অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন প্রতিরোধ চলবে।”
ডিজিটাল ভূমি জরিপের ঢাকা জোনের প্রধান মাহমুদ জামান জানান, অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “ছাত্ররা দুইজনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







