নতুন নারায়ণগঞ্জ গড়তে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস: যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব

4
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু যানজট নিরসন নিয়ে কথা বলছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চেম্বার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসন এবং শহরকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে ব্যবসায়ী সমাজ ও জেলা প্রশাসনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। 

তিনি বলেন, “পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর চাই। এজন্য আমাদের সবাইকে একসাথে মিলে কাজ করতে হবে।”

রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

যানজট নিরসনে সমন্বিত কমিটি ও ওয়ান-ওয়ে প্রস্তাব

সভায় মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু যানজটকে শহরের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এর সমাধানে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যানজটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা জরুরি। এই কমিটি যানজটের পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করবে।”

তিনি শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাকে ‘ওয়ান-ওয়ে’ বা একমুখী করার প্রস্তাব দেন।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তরের দাবি

অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে চেম্বার সভাপতি বলেন, “শহরে ঠিক কতগুলো অটোরিকশার বৈধ পারমিট রয়েছে, তার সঠিক তথ্য আমাদের জানা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে বাকি অটো গুলোকে শহরের ভেতরে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাদের জন্য শহরের বাইরে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে।”

বাস ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, “শহরের বাস স্ট্যান্ডগুলোকে বাইরে স্থানান্তর করা গেলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শহরের বাইরে সুবিধাজনক স্থানে বাস স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”

ফুটপাত দখল ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ

“ফুটপাত ছাড়িয়ে ভ্যান ও ভাসমান দোকানগুলো মূল রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছে। 

যার ফলে একটি গাড়িও ঠিকমতো চলতে পারে না। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেকোনো উন্নয়ন কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

মাসের পর মাস রাস্তা কেটে ফেলে রাখলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে এবং যানজট তীব্র হয়।”

সভায় সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাং শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা বাংলাদেশ জুড়েই এখন এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর পেছনে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দায়ী।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

জেলা প্রশাসকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ চেম্বার সভাপতি

জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন চেম্বার সভাপতি। 

তিনি বলেন, “আপনি যেভাবে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ নারায়ণগঞ্জ গড়ার জন্য লাখের বেশি গাছ লাগিয়েছেন তা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। 

সেই তুলনায় যানজটের মতো সমস্যা সমাধান আপনার জন্য খুব বড় কাজ নয়।

আমরা আশাবাদী, আপনার নেতৃত্বে এবং আমাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা এই শহরকে যানজটমুক্ত করতে পারব।

যদি আপনি এটি করতে পারেন, তবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ সারাজীবন আপনার নাম স্মরণ রাখবে।”

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন এবং জেলা প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।