
আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে উদযাপিত হলো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা’র ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে চ্যানেলটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্বের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাউদ মাসুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাছরাঙা টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আনিসুর রহমান জুয়েল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাছরাঙা টেলিভিশনের গত ১৪ বছরের যাত্রার প্রশংসা করেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আরিফ আলম দিপু বলেন, “মাছরাঙা টেলিভিশন হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১৪ বছর পার করেছে। তাদের ভিন্নধর্মী ও সৃজনশীল অনুষ্ঠানগুলো দর্শকের নজর কেড়েছে। চ্যানেলটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।”
আরেক সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদল বলেন, “মাছরাঙা টেলিভিশন শুধু সংবাদ নয়, সংস্কৃতির প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক আরও গভীর ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশংসা করে বলেন, “সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে, যা ইতিবাচক। নারায়ণগঞ্জ জেলায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। এই অপরাধ দমনে আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আমরা শুধু খুচরা অপরাধী নয়, তাদের পেছনের মূল হোতাদেরও ধরতে চাই। আপনাদের তথ্য আমাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও জানান, “আজ থেকে জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর।”
জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত এনডিসি তামশীদ ইরাম খান মাছরাঙা টেলিভিশনের সৃজনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, “মাছরাঙার লোগো থেকে শুরু করে কাজের ধরন, সবকিছুতেই একটি স্বকীয়তা রয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের কষ্টের কথা অনুধাবন করতে পারি। লাইক-শেয়ারের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে আপনারা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের সাংবাদিকতা উপহার দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।” তিনিও আরও বিস্তারিত ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর জোর দেন।
তবে অনুষ্ঠানের আলোচনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ। তিনি মাছরাঙার প্রতিনিধি জুয়েলের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের প্রশংসা করে আরও গভীর অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনকে অনেক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি, কিন্তু অনেক সময় সেই তথ্য উধাও হয়ে যায় এবং তথ্যদাতার নাম প্রকাশ করে দেওয়া হয়।”
নিজের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমি একটি বিষয়ে পুলিশ সুপার মহোদয়কে ফোন করে জানাই। তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এক রাজনৈতিক নেতা আমাকে ফোন করে বলেন, ‘ভাই, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আপনি এসপি সাহেবকে বলেছেন?’ এই ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। আমার পরিচয় ফাঁস করে দেওয়া হলো।”
তিনি পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “ভাই, আপনাদের মতো আমাদের কাছে অস্ত্র নেই। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাই নিজেদের নিশ্চিত করতে হয়। কারণ ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়ার সক্ষমতা পুলিশ বাহিনীর এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি।” তার এই বক্তব্যে মিলনায়তনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
আলোচনা পর্ব শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় চ্যানেলটির কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।







