
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব রেখে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ), নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই, ২০২৫) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
সারাদেশে যে ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানায় রদবদলের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে, তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের এই তিনটি আসনও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ): বর্তমান সোনারগাঁ উপজেলার সঙ্গে বন্দর উপজেলার কিছু অংশ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ): এই আসনের অধীনে থাকা ফতুল্লা থানার ৫টি ইউনিয়নের সঙ্গে সদর থানার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর): এই আসনটি নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত।[8] নতুন খসড়া অনুযায়ী, এই আসনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা এই আসনের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, মূলত প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যার বাস্তব বিভাজনকে বিবেচনায় নিয়ে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে একটি কারিগরি কমিটি এই পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
সারাদেশে সংসদীয় আসন প্রতি ভোটারের গড় সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো এবং বাগেরহাটে একটি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রেও জনসংখ্যার घनত্ব ও ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন এই খসড়া তালিকার ওপর আপত্তি বা সুপারিশ জানানোর সুযোগ রেখেছে। কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আগামী ১০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের দাবি, আপত্তি বা সুপারিশ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো পর্যালোচনার পর শুনানি শেষে সীমানা চূড়ান্ত করা হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন সীমানায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নির্বাচনী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে এবং দলীয় মনোনয়ন নিয়েও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হতে পারে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই নির্দিষ্ট হবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মানচিত্র শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।







