নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটিকে গিয়াস উদ্দিনের অভিনন্দন: একে অপরের সহায়ক হয়ে কাজ করার আহ্বান

13

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের সিন্যামন রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সকল সদস্যের সাথে মিলিত হন।

প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাউদ মাসুদের সভাপতিত্বে এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জীবনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় গিয়াস উদ্দিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন সিনিয়র সাংবাদিকরা।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সাউদ মাসুদ বলেন, “গিয়াস ভাইয়ের সাথে আমাদের সম্পর্কটা হলো আত্মার। এটি কোনো কৃত্রিম সম্পর্ক নয়, বরং অনেক গভীরের।”

সিনিয়র সদস্য সালাম জুবায়ের বলেন, “গিয়াস ভাইকে নতুনরা অনেকেই হয়তো সেভাবে চেনেন না। তিনি একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হওয়ার পাশাপাশি একটি পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে তার সম্পর্ক বহুদিনের।

আরেক সিনিয়র সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, “পাশাপাশি গিয়াস ভাই একজন শিক্ষানুরাগীও বটে। সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।” সিনিয়র সদস্য অহিদুল হক খান বলেন, “নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে আমি গিয়াস ভাইয়ের মতো নিপীড়িত, নির্যাতিত রাজনীতিবিদ খুব একটা দেখিনি।”

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বপ্ন আমি দেখি এবং তা বাস্তবায়নে চেষ্টাও করি। আমাদের অনেকের ভুলের কারণে নারায়ণগঞ্জের সুনাম নষ্ট হয়েছে, যা অনস্বীকার্য। আমার কাছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি একদিকে এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও অবস্থান অন্যদিকে।”

তিনি সাংবাদিকদের রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিরুদ্ধে কোনো নিউজ হলে আমি তা মনোযোগ দিয়ে পড়ি এবং নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করি। কারণ সেই সাংবাদিক আমাকে নতুন একটি পথ দেখান।”

গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, “আপনাদের সঠিক লেখনির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবে। আদর্শগত জায়গায় এক থেকে, কারো চরিত্র হনন না করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।” তিনি স্থানীয় পত্রিকাগুলোর নানা সংকট তুলে ধরে বলেন, “কোনো নিউজ যদি মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, তবে নতুন কমিটি যেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনে।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দুর্দিনে জেলার দায়িত্ব পালন করে পুরো জেলাকে সুসংগঠিত করেছি। আগামীতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা যাতে জয়ী হতে পারে, তা নিয়ে আমি কাজ করছি। দল আমাকে যে আসন থেকে মনোনয়ন দেবে, আমি সেখান থেকেই কাজ করব। না দিলেও মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করে যাব।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আসুন, আমরা একে অপরের সহায়ক হয়ে এমনভাবে কাজ করি, যাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষ দেখলে অন্য জেলার মানুষ সম্মান করে।”

উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, দৈনিক অগ্রবানীর সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, সোনারগাঁ  থানা যুবদলের আহ্বায়ক শহীদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধান, বিএনপি নেতা পল্টু কর্মকার।

সাংবাদিকদের মাঝে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, যুগ্ম সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জুয়েল, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আরিফ আলম দিপু, আব্দুস সালাম, প্রণব কৃষ্ণ রায়, প্রেসক্লাব সদস্য অহিদুল হক খান, সালাম জুবায়ের, নাহিদ আজাদ, এম আর কামাল, আনিস উর রহমান, নাফিজ আশরাফ, রফিকুল ইসলাম রফিক, শফিউদ্দিন বিটু, হাসান আরিফ, মজিবুল হক পলাশ, শওকত আলী সৈকত, আনোয়ার হাসান, শফিকুল ইসলাম সোহেল, দিলীপ কুমার মন্ডল, মহিউদ্দিন পলাশ, মোস্তাক আহমেদ শাওন, হাবিবুর রহমান শ্যামল, রাসেল আদিত্য, এমরান আলী সজিব, সাইফুল ইসলাম সায়েম, সাবিত আল হাসান প্রমুখ।