
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত এক-এগারো (১/১১)-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক লাইনের একটি পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন তার এই পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
মাহফুজ আলম তার পোস্টে কেবল লিখেছেন, “১/১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে!”
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে মন্তব্য করতে শুরু করেন।
তাইফুর রহমান নামে একজন মন্তব্যকারী লেখেন, ‘১/১১ এর আগে রাস্তা এবং রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট ছিল আজ তা অনুপস্থিত অথবা আমাদের কাছে দৃশ্যমান না। আপনি এক বাক্যে যদি এইরকম কথা বলেন তাহলে কিভাবে হবে বলুন?’
এর উত্তরে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লেখেন, “দৃশ্যমান হচ্ছে, হবে।” তার এই সংক্ষিপ্ত উত্তর রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
কী ছিল সেই ‘এক-এগারো’?
২০০৬ সালের শেষদিকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তীব্র বিরোধ এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
এই ঘটনাটিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘এক-এগারো’ বা ‘১/১১’ নামে পরিচিতি পায়।
সে সময় দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টাসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়।
যদিও প্রায় দুই বছর পর সেই সরকারের অধীনেই একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে ফেরে বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।
কেন এই আলোচনা?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৬ বছরের শাসনের অবসানের পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক উপদেষ্টার এমন মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছেন কিনা, তা নিয়েই চলছে মূল আলোচনা।







