স্বৈরাচারের পতন না হলে অনেকের ফাঁসির রায় হতো – গিয়াসউদ্দিন

6
সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির বিজয় র‍্যালিতে বক্তব্য রাখছেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত বিজয় র‍্যালিতে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক বিশাল বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ সময় বক্তারা বলেন, ১৬ বছরের অত্যাচার-নির্যাতন উপেক্ষা করে জনগণ রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে এবং এই বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিজয় র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

‘নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছি’

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের ধারাবাহিক স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ থেকে আমরা এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করার ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।” তিনি তারেক রহমানের নির্দেশনায় সকল অত্যাচার উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান।

গিয়াসউদ্দিন আরও বলেন, “এত নির্যাতন, এত অত্যাচার সহ্য করেও তারা (নেতাকর্মীরা) আমার প্রতিটি ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

যার কারণেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি নিয়ামক ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছিল।”

‘গণহত্যা করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না’

সাবেক এই সংসদ সদস্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য নিরস্ত্র মানুষের উপর গুলি চালানো, গণহত্যা করা—এর ইতিহাস বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

হেলিকপ্টার থেকে বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে আমাদের অনেক ভাই এমনকি শিশুও নিহত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “যদি স্বৈরাচার পাঁচ তারিখে পালিয়ে না যেত, তাহলে অনেকেরই ফাঁসির রায় হতো, অনেকের জীবন ধ্বংস হয়ে যেত।

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সেদিন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল।”

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলার হুঁশিয়ারি

মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন ঘোষণা করেছে।

কোনো ষড়যন্ত্র যদি এই নির্বাচনকে বাঞ্চাল করার চেষ্টা করে, তাহলে বিএনপি আবারও রাজপথে নামবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে।”

“গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার যেন কেউ ধ্বংস করতে না পারে, সে জন্য সককলকে সজাগ থাকতে বলেন তিনি।”

তিনি আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

একই সাথে, শহীদদের পরিবারকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ারও দাবি তোলেন।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‍্যালি বের করা হয়, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।