
“ভোট ভিক্ষা নয়, আদায় করে নেওয়া হবে”—অন্তর্বর্তী সরকারকে এভাবেই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “দেশের মানুষ ১৭ বছর ধরে ভোটের জন্য লড়ছে। এই ভোট এই সরকারের কাছ থেকে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। সরকারের ভেতরে-বাইরে যতই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হোক, কোনো ষড়যন্ত্রকেই বিএনপি পরোয়া করে না।”
সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বর যেন পরিণত হয়েছিল বিএনপির শক্তির কেন্দ্রে।
যুবদল আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মির্জা আব্বাস।
২৮ অক্টোবরের আক্ষেপ এখন শক্তি
তিনি বলেন, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থান সফল না হলেও বিএনপির আন্দোলন থামত না। তাঁর কথায়, “জুলাই-আগস্ট না হলে অন্য কোনো মাসেই বিএনপি আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দিত।”
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা স্মরণ করে আব্বাস বলেন, সেদিন চক্রান্ত করে বিএনপির গণজোয়ার রুখে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “সেদিন সমাবেশ থেকে যদি চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া যেত, তাহলে এই সরকারের ক্ষমতার মসনদ উড়ে যেত।”
তাঁর দাবি, পুলিশের গুলি আর কাঁদানে গ্যাসের কারণে সেদিন চক্রান্ত সফল হয়েছিল।
নব্য দলগুলোকে কড়া জবাব
নব্য গজিয়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে আঙুল তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, “কেউ কেউ বলছে, এক ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে আরেক ফ্যাসিবাদ আনা চলবে না।
এই কথা তো আমরাও বলছি। আরেক ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমরাও তা প্রতিরোধ করব।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “‘হাসিনা গিয়েছে যেই পথে, তারেক যাবে সেই পথে’—এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি নোংরা চক্রান্ত।”
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সরকারের মুখপাত্র হয়ে কথা বলছেন।
এই কথা আপনাদের মাথা থেকে আসছে না, অন্য কেউ আপনাদের দিয়ে বলাচ্ছে। এসব করে কোনো লাভ হবে না।”
শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন।
যুবদল সভাপতির সভাপতিত্বে এই সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ৭৮ জন নেতাকর্মীর পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
তাদের আত্মত্যাগকে বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও শপথ নেন নেতাকর্মীরা।







