
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহু বছরের পুরোনো ও তীব্র ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। এলাকাবাসীর দাবির মুখে তিনি নিজ খরচে খাল খনন করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা রবিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জলাবদ্ধতায় নাকাল ফতুল্লাবাসী, পরিদর্শনে রনি
শনিবার (০৯ আগস্ট) সকালে মশিউর রহমান রনি ফতুল্লার ইসদাইর, মাসদাইর, লালপুরসহ জলাবদ্ধতায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের চিত্র দেখেন এবং জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।
জলাবদ্ধতার মূল কারণ কী?
এলাকাবাসীর মতে, এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতার পেছনে মূলত তিনটি কারণ দায়ী:
-
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা: গোটা ইসদাইর, গাবতলী, ট্যাগারের পাড় ও লালপুর এলাকায় কোনো পরিকল্পিত ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।
-
দুর্বল পাম্প: লালপুর পাকিস্তান খাদে থাকা তিনটি অস্থায়ী পাম্প প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
-
দখল ও ভরাটে মৃতপ্রায় খাল: ইসদাইর রেললাইন ব্রিজ থেকে লিংক রোডের সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত প্রধান কাঁচা ড্রেনটি দখল ও ময়লায় ভরাট হয়ে এর পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে।
নিজ খরচে খাল খননের ঘোষণা ও এলাকাবাসীর স্বস্তি
পরিদর্শন শেষে রনি যখন এলাকাবাসীর কাছে আশু করণীয় জানতে চান, তখন তারা সর্বাগ্রে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি খননের দাবি জানান।
জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মশিউর রহমান রনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজ খরচে খালটি খনন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তার এই ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
তাদের মতে, এই খালটি সচল হলে রেললাইনের পূর্ব পাড়ের একটি বিশাল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
বিগত সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করলেন রনি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মশিউর রহমান রনি বলেন, “বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং শামীম ওসমান-এর গাফিলতির কারণে ফতুল্লার মানুষ বছরের পর বছর ধরে পানিবন্দী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাই মানুষের কষ্ট লাঘবে আমি নিজেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, খালটি খনন সম্পন্ন হলে এ বছর আর জলাবদ্ধতা হবে না।”
(নারায়ণগঞ্জ, খাল খনন, যুবদল, শামীম ওসমান, ইসদাইর, জনদুর্ভোগ, ড্রেনেজ সমস্যা, Fatullah Waterlogging, Narayanganj News)







