দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ফতুল্লাবাসীর পাশে দাড়ালো মশিউর রনি

ভেকু দিয়ে দিনব্যাপী খাল পরিস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়

21

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিনের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। বহু বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ও দখলদারিত্বে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ইসদাইর, আনন্দনগর হয়ে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত বয়ে যাওয়া খালটি পরিষ্কারের জন্য আজ রবিবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে নিজ খরচে, যা এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের মনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

সরেজমিনে খাল পরিষ্কার অভিযান
সকাল থেকেই ফতুল্লার এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি পরিষ্কারের কাজ জোরেশোরে চলছে। বিশাল আকৃতির ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে খাল থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পলিমাটি এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। দিনব্যাপী চলা এই পরিষ্কার কার্যক্রমের ফলে মৃতপ্রায় খালটি ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে এবং জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘদিন পর তাদের এলাকার পানি সরতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে রনির দৃঢ় অঙ্গীকার
খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় মশিউর রহমান রনি উপস্থিত স্থানীয় মুরুব্বিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই এলাকার মুরুব্বি মান্নান কাকাকে, যিনি সবসময় সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে সামনের সারি থেকে কাজ করার চেষ্টা করেন। উজ্জ্বল ভাই, কাদির ভাই এবং রফিকুল ইসলাম জীবন কাকা সহ সবার উদ্যোগের ফলেই আমরা আজকে একটি দীর্ঘ সময়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যারা বিগত সময়ে এই ঝড়, তুফান এবং বর্ষার সময় হাঁটু পানি, গলা পানিতে নেমে এসে সমাজের কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিল কিন্তু বাস্তবতার রূপ দেখাতে পারেনি, আমরা তাদের মতো নই। আমরা আজ থেকে কাজ শুরু করেছি এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত গাবতলি, উত্তর মাসদাইর, লালপুর, টাগার পাড়, কাপুরা পট্রির মাজার রোড, ইসদাইর মাসদাইর-এর পানি সম্পূর্ণরূপে বের না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভেকু ও প্রতিদিন ১০ জন লেবার দিয়ে কাজ চালিয়ে যাবো।”

কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী রনি
মশিউর রহমান রনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আসলে আমাদের মূল কথাটা হচ্ছে আমরা কথায় বিশ্বাসী না হয়ে কাজে বিশ্বাসী হতে চাই। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান আমাদের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা জনগণের জন্য এবং দেশের জন্য মানুষের জন্য কাজ করো। আমরা সেই কাজটি করছি।”

তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যারা বিগত দিনে ১৬ বছর সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন, মেম্বার ছিলেন এবং গডফাদার হিসেবে শামীম ওসমান ছিলেন, তারা জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলে ৫০০ কোটি থেকে ১৩০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে, পাশাপাশি ৬০০০ কোটি টাকা পাচার করেছে। কিন্তু কোনো কাজ তারা করেনি।” রনি বলেন, “আমরা মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। আমরা কাজের মাধ্যমে মানুষের ধারে কাছে যেতে চাই, যাতে মানুষ উপলব্ধি করে বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যারা করে, তারা কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী।”

জলাবদ্ধতার মূল কারণ ও পূর্ববর্তী পরিদর্শন
উল্লেখ্য, গত শনিবার (০৯ আগস্ট) সকালে মশিউর রহমান রনি ফতুল্লার ইসদাইর, মাসদাইর, লালপুরসহ জলাবদ্ধতায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র দেখেন এবং জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, লালপুর পাকিস্তান খাদে থাকা তিনটি দুর্বল পাম্প এবং দখল ও ভরাটের কারণে এই খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিদর্শনের পরই তিনি নিজ খরচে খালটি পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মশিউর রহমান রনি আরও জানান, এই এলাকার সব সমস্যা তারা ইতিপূর্বে চিহ্নিত করেছেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উজ্জ্বল ভাইয়ের সাথে আলাপ করে যেইসব এলাকায় খাল আছে এবং ডিএনডি বাঁধ আছে, সেখানে যুবকদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে প্রতি বছর খাল পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো হবে।

এই খালটি সচল হলে রেললাইনের পূর্ব পাড়ের একটি বিশাল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। রনির এই তাৎক্ষণিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ ফতুল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।