
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম আসলাম ও জেলা তরুণ দলের সভাপতি টি এইচ তোফাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
রোববার (১০ আগস্ট, ২০২৫) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এস এম আসলাম এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টিএইচ তোফাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তার ও আটকাদেশের প্রেক্ষাপট:
এর আগে, গত ৭ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এস এম আসলাম ও টি এইচ তোফাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশের (ডিটেনশন) জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে পুলিশ।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৩০ দিনের আটকাদেশ দেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বহিষ্কৃত নেতাদের পরিচয়:
বহিষ্কৃত এস এম আসলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতির দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।
অন্যদিকে, টি এইচ তোফা জেলা তরুণ দলের সভাপতির পদে থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করছে।







