প্রবাসী দম্পতির কান্না: ‘শুধু একটু শান্তিতে থাকতে চাই, আমরা কি মানুষ না?’

প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও ৫০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ

28

কান্নাজড়িত কণ্ঠ আর চোখেমুখে তীব্র আতঙ্ক। বিদেশের মাটিতে উপার্জিত অর্থে নিজ দেশে একটু শান্তির নীড় গড়ার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে কীভাবে সবকিছু দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো, সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন ইতালি প্রবাসী এক দম্পতি। 

মূলত, নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নাজিম উদ্দিন ও তার বাহিনীর হাতে তিনি ও তার স্বামী ভয়াবহ নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং হুমকির শিকার হয়ে আসছেন।

কান্নায় ভেঙে পড়ে মার্জিয়া খাতুন প্রশ্ন রাখেন, “আমরা প্রবাসী বলে কি আমাদের কোনো ন্যায়বিচার নেই? আমরা কি মানুষ না? আর কত নির্যাতন সহ্য করতে হবে? বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে দেশে টাকা পাঠাই, অথচ সেই দেশেই একটু শান্তিতে থাকতে পারব না?”

স্বপ্নের বাড়ি যেভাবে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো

প্রায় ২০ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন মার্জিয়া খাতুন ও তার স্বামী শাহাবুদ্দিন সরকার।

জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তারা।

কিন্তু, সেই স্বপ্নই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। মার্জিয়া খাতুনের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তাদের বাড়ি নির্মাণের ঠিকাদারি নেন।

এরপর, শুরু থেকেই তিনি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন।

এক পর্যায়ে তিনি তাদের নির্মাণাধীন বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তার “দলীয় বাহিনী” দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

চাঁদা না দেওয়ায় ভয়ঙ্কর নির্যাতন

মার্জিয়া খাতুন বলেন, ২০১৯ সালে দেশে ফিরে তিনি দেখেন, তার বাড়ির সীমানার কিছু অংশ দখল করে নেওয়া হয়েছে।

এসময় নাজিম উদ্দিন তার বাড়ির সামনের রাস্তা প্রশস্ত করার অজুহাতে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সেই চাঁদা না দেওয়ায় নাজিম উদ্দিন তাদের নির্মাণাধীন বাড়ির সবগুলো পিলারের রড কেটে ফেলেন এবং পুরো বাড়ি ভেঙে তছনছ করেন। এর ফলে, তাদের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মার্জিয়া খাতুন আরও বলেন, “তৎকালীন সময়ে আমরা এই অবিচারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছি।

কারণ, প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ আমাদের কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি।”

ক্ষমতা বদলেও থামেনি নির্যাতন

গত বছর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রবাসী দম্পতি ভেবেছিলেন, হয়তো এবার নাজিম উদ্দিনের অত্যাচার থেকে মুক্তি মিলবে।

তাই তারা নতুন করে বাড়ির কাজ শুরু করেন। কিন্তু তাদের সেই আশাতেও গুড়েবালি।

মার্জিয়া খাতুনের অভিযোগ, সম্প্রতি নাজিম উদ্দিন আবারও সক্রিয় হয়েছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।

অবশেষে, সংবাদ সম্মেলনের শেষে মার্জিয়া খাতুন আর্তনাদ করে বলেন, “আমরা এখন প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আমরা প্রশাসনের কাছে, দেশের মানুষের কাছে এর বিচার চাই। আমরা আর কিছু চাই না, শুধু একটু শান্তিতে থাকতে চাই।”

এদিকে, অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমার বয়স ৭০ বৎসর, উল্টো মার্জিয়া ও তার স্বামীই আমার উপর অত্যাচার-নির্যাতন করছে।