
বছরের পর বছর ধরে চলা তীব্র জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে একাট্টা হয়েছেন ফতুল্লার বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা।
মূলত, জনপ্রতিনিধিদের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা হারিয়ে নিজেরাই মাঠে নেমেছেন তারা।
এরই প্রেক্ষাপটে, গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) এক বিশেষ সভায় ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, আগামী বর্ষার আগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে কঠোর ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার ফতুল্লার পোষাপুকুর পাড়, লালপুর, টগারপাড়, ইসদাইর, এবং গাবতলীসহ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর গাবতলী সোসাইটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন।
প্রতিনিধিদের উপর আস্থা নেই এলাকাবাসীর
সভায় বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহালেও জনপ্রতিনিধিরা কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েই দায় সেরেছেন।
বিশেষ করে, ডিএনডি প্রকল্পের জন্য হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল পায়নি ফতুল্লার এই এলাকাগুলোর মানুষ।
ফলস্বরূপ, সামান্য বৃষ্টিতেই এখানকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনজীবনকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে তোলে।
শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে জীবনের ক্ষোভ
সভায় রফিকুল ইসলাম জীবন তার বক্তব্যে সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর ঘরে দাঁড়িয়ে বলছি, শামীম ওসমান সাহেব আন্তরিকভাবে এই এলাকার জন্য কিছুই করেননি। যদি তিনি চাইতেন, বিগত সরকারে তার যে দাপট ও ক্ষমতা ছিল, তাতে এই সমস্যার সমাধান করা কোনো বিষয়ই ছিল না। বরং, রেললাইনের এপারের এলাকাগুলোকে ডিএনডি প্রকল্প থেকে বিচ্ছিন্ন করে তিনি আমাদের ক্ষতি করেছেন এবং সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেননি।”
১৫১ সদস্যের কমিটি ও জবাবদিহিতার নতুন কৌশল
রফিকুল ইসলাম জীবন আরও বলেন, “সামনে নির্বাচন। আমরা আর কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি চাই না। এ কারণে, ফতুল্লা ইউনিয়ন ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৪, ৬ ও ৯ নং ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ১৫১ সদস্যের একটি ‘জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়ন কমিটি’ গঠন করা হবে।”
তিনি জানান, এই কমিটি নির্বাচনের সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর সঙ্গে বসবে এবং ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি আদায় করবে।
উপরন্তু, যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, তাকে এই কমিটির কাছে কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে জীবন বলেন, “মিষ্টি কথায় আর কাজ হবে না। যদি নির্বাচনের পর আমাদের সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে এই কমিটি ‘অ্যাকশন কমিটি’-তে রূপ নেবে। আমরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেবো, প্রয়োজনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো। এলাকাবাসীর জন্য জেলে যেতেও আমি প্রস্তুত।”
সভায় ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আউয়াল এবং ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মাইনউদ্দিনসহ অন্যান্য বক্তারাও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
পরিশেষে, একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী সামাজিক চাপ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়ে কাজ আদায় করা যাবে না বলে সভায় উপস্থিত সকলে একমত হন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মোস্তফা কামাল, বিএনপি নেতা সহিদুল হক সহিদ, সাজেদুল ইসলাম সেলিম, মিজানুর রহমান মিজান, মো. হানিফ, পৌষা পুকুর পাড় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন মুসা, সাধারণ সম্পাদক মো. বারী, আল আমিন বাগ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, আর্মি সামছু, শাহ আলম, মাজহারুল ইসলাম খোকন, জাহাঙ্গীর, বাইতুল আঙ্গুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হান্নান মুন্সী, সিরাজ পুলিশ, শাহীন সহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।







