
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট গালিবের জ্বালাময়ী বক্তব্য পুরো নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মূলত, তিনি একাধারে হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলেছেন এবং অন্যদিকে নির্বাচনকে ভয় পাওয়া প্রার্থীদের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হুমকিকে পরোয়া করি না, আমরা জিয়ার সৈনিক
নির্বাচনী প্রচারণার এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সামনে অ্যাডভোকেট গালিব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “ইতিমধ্যে আমরা হুমকি-ধামকির শিকার হচ্ছি। কিন্তু আমরা ভয়ে ভীত নই। আমরা জিয়াউর রহমান সাহেবের সৈনিক, আমরা গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার সৈনিক, আমরা রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের সৈনিক।”
এরই প্রেক্ষাপটে, তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি না, ভয় করি না। এবং কোনো প্রকার রক্তচক্ষু দিয়ে, কোনো প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে আমাদের দমানো যাবে না।”
তার এই বক্তব্য উপস্থিত কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে।
“নির্বাচনকে ভয় পেলে রাজনীতি ছেড়ে দিন”
শুধু তাই নয়, গালিব তার প্রতিপক্ষকে একহাত নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
তিনি বলেন, “আমরা বিনা ভোটের নির্বাচন ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।” যারা নির্বাচনকে ভয় পায়, তাদের রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে যাদের ভয়, তাদের রাজনীতি করা ঠিক না। নির্বাচনে যদি যাদের ভয় কাজ করে, নির্বাচনে যারা উপেক্ষা করতে চায়, নির্বাচনে যারা কারচুপি করতে চায়, আমি তাদের কাছে অনুরোধ করি, তারা আল্লাহর ওয়াস্তে রাজনীতি ছেড়ে দেন।”
তার মতে, রাজনীতি করতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সম্মান জানানোর সৎ সাহস থাকতে হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা
তবে, বক্তব্যের এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট গালিব বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী এড. বারী ভুইয়া অতীতেও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছে।
ফলস্বরূপ, তিনি আশা করেন এবারের নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনায় সিসি ক্যামেরা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
সর্বোপরি, তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা ৫ জন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার আবেদন জানান, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, অ্যাডভোকেট গালিবের বক্তব্য নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
তার এই সাহসী অবস্থান একদিকে যেমন তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করছে, তেমনি প্রতিপক্ষের উপরও একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে।
যা আগামী ২৮ আগস্টের নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







