নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন না পেলে প্রার্থী হবেন মিলন মেহেদী

178
এডভোকেট মিলন মেহেদি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এডভোকেট মিলন মেহেদি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন হাওয়া লেগেছে। এলাকার সাধারণ জনগণ এবার প্রার্থী হিসেবে শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও সমাজসেবক এডভোকেট মিলন মেহেদি-কে দেখার জোরালো দাবি তুলেছে। বক্তাবলী পরগণার কানাইনগর গ্রামের এই কৃতী সন্তানের প্রতি আস্থা রেখে এলাকাবাসী তাকেই আগামী দিনের সংসদ সদস্য হিসেবে চায়।

শর্তসাপেক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা:

তবে, ক্ষমতার রাজনীতিতে নামতে অনাগ্রহী এডভোকেট মিলন মেহেদিএ বিষয়ে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস সাহেবের হাতেই নিরাপদ থাকুক। কিন্তু যদি কোনো কারণে বা দলের ভুল সিদ্ধান্তে তিনি এই আসন থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে আমি চুপ করে বসে থাকব না। জনগণের অনুরোধে এবং এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে বাধ্য হবো।”

উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির রূপরেখা

নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন মিলন মেহেদি। বিশেষ করে, তিনি যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন:

  • কলকারখানার কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন।

  • এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নির্মূল করা।

  • বক্তাবলী ও ডিক্রিরচরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপনে নদীতে ব্রিজ নির্মাণ।

  • ঐতিহাসিক কানাইনগর গ্রামের সীমানা রক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও অভিযোগ:

এডভোকেট মিলন মেহেদি অভিযোগ তুলে বলেন, “ব্রিটিশ আমল থেকেই কানাইনগর ও প্রসন্ন নগর ভ্রাতৃপ্রতীম গ্রাম। অথচ, প্রসন্ন নগরের বিতর্কিত উকিল আলামিন সিদ্দিক চক্রান্ত করে আমাদের গ্রামের জমি দখল করে নতুন গ্রাম বানানোর চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই এলাকা নদীর বুকে ভেসে ওঠা কোনো চর নয় যে সে দখল করে ইচ্ছেমাফিক নাম দিয়ে গ্রাম বানিয়ে ফেলবে। সে শহরে লুকিয়ে থেকে কানাইনগর ও প্রসন্ন নগরকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে এবং ফেক আইডি ব্যবহার করে এলাকার মানুষদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে ও মামলার ভয় দেখাচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যদিও সে নিজেকে বিএনপির লোক বলে দাবি করে, কিন্তু বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী সরকারের দালালি করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তৎকালীন চেয়ারম্যানের ইশারায় কোনো সমাধান হয়নি।”

সবশেষে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এই আওয়ামী দোসর উকিল আলামিন সিদ্দিককে কেবল কানাইনগর নয়, সমগ্র নারায়ণগঞ্জ থেকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব। জনগণের ভালোবাসা ও দোয়া আমার একমাত্র শক্তি। আমি দায়িত্ব নিলে জনগণ উন্নয়ন, নিরাপত্তা আর ন্যায়বিচার পাবে এবং সকল চক্রান্তকারীরা পরাজিত হবে।”