সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ: ১ মাসের শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ

4
সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি এলাকায় বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেড বাড়ি।
সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি এলাকায় বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেড বাড়ি।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ফলেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকাকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

মধ্যরাতের ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ঘটনাটি ঘটে পাইনাদি মুড়ি ফ্যাক্টরির গলিতে অবস্থিত জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়িতে। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তখন হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্রতায় ঘরের টিনের চালা পর্যন্ত উড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কাঁচপুর ও আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আহতদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা

এই দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— তাহেরা বেগম (৬৫), হাসান (৩৭), সালমা (৩০), মুনতাহা (১১), জান্নাত (৪), এক মাস বয়সী শিশু রাইয়ান, আসমা (৩৫), তিসা (১৬) এবং আরাফাত (১৩)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাহেরা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বর্ণনা

অগ্নিদগ্ধ তাহেরার ছোট বোন মরিয়ম জানান, তার বোন তিন মাস আগে মেয়ের জামাই হাসানের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে, দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সবার অবস্থা খুবই খারাপ।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মামুন জানান, এই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রশিদ কিছুদিন আগে মারা যান। তার তিন মেয়ে ও তাদের পরিবারগুলো এখানকার তিনটি কক্ষে ভাড়া থাকতো। দুর্ভাগ্যবশত, দুটি কক্ষের সবাই এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিক কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মীরন মিয়া বলেন, “আমাদের প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে ফ্রিজের কম্প্রেসার অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত।”

তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।” বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে।